Somoy TV
ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।আজ সোমবার (৮ জুন) ভোরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ফিলিপিন্সের সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। কম্পন পুরো মিন্দানাওজুড়ে অনুভূত হয়। এমনকি ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার মানাদো শহরেও ভূমিকম্পের কম্পন টের পাওয়া যায়। নাগরিক সুরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, নিহতদের বেশিরভাগই ভবনের ধ্বংসাবশেষ চাপা পড়ে বা ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। কর্তৃপক্ষ জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও স্থাপনায় প্রবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে একটি জোলিবি রেস্তোরাঁর উপরের তলা ধসে পড়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত জেনারেল সান্তোষ সিটির একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের বাইরের কংক্রিটের দেয়ালও ভেঙে পড়ে। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল জেনারেল সান্তোস সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এটি আঘাত হানে। আরও পড়ুন: রাতে একই জায়গায় ৩ বার ভূমিকম্প! ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপিন্স, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে সড়কপথ পরিষ্কার করার কাজ চলছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং আমরা মিন্ডানাওকে একা ছেড়ে দেব না।’ ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি ও উত্তর মালুকু প্রদেশেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপিন্স বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রায়ই ঘটে। এছাড়া প্রতি বছর দেশটিতে গড়ে প্রায় ২০টি টাইফুন ও উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় আঘাত হানে। আরও পড়ুন: ফিলিপিন্সে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। দাভাওয়ের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিডিওতে দেখা যায়, সকালের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের সময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করছে। ফিলিপিন্স রেড ক্রস জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তারা অন্তত তিনটি উচ্চবিদ্যালয়ে সেবা দিয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুদের নিরাপত্তাই সবার আগে।’
Go to News Site