Somoy TV
মুন্সীগঞ্জে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমায় সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।শুক্রবার (৫ জুন) মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের সবজি হাটে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি থেকে তোলা তাজা সবজি নিয়ে সারি সারি পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বর্ষাকালীন কহি, দুন্দল, কাকরোল ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। কচি লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস, জালি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস এবং মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া ঢ্যাঁড়স ১০ টাকা ও পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাটে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকায়। করলা ও উচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ২০ থেকে ২৫ টাকা, বড় কচু ১৫ থেকে ২০ টাকা পিস, লাল শাক ও পাট শাক ২০ টাকা আঁটি, বরবটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধনেপাতা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আরও পড়ুন: বাড়ল চালের দাম ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক বেশি। ফলে পাইকারি ও খুচরা; িদুই পর্যায়েই দাম কমেছে। প্রতিদিনের মতো হাটে পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও কম দামের কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না। উত্তর কেওয়ার এলাকার কৃষক আবু বাছেদ বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম অনেক কম। উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়ছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন মৌসুম শেষে গত ১৬ মার্চ থেকে খরিপ-১ মৌসুম শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এ মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৯০৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের বর্ষাকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ভালো হলেও অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। কৃষকরা জানান, মুন্সীগঞ্জে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। কিছু সবজি বিদেশেও রফতানি করা হয়। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
Go to News Site