Collector
আপনি কি মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’য় ভুগছেন, কীভাবে বুঝবেন? | Collector
আপনি কি মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’য় ভুগছেন, কীভাবে বুঝবেন?
Somoy TV

আপনি কি মানসিক রোগ ‘সিজোফ্রেনিয়া’য় ভুগছেন, কীভাবে বুঝবেন?

সিজোফ্রেনিয়া একটি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ। এটি মানুষের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। রোগীরা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেন এবং বিভ্রান্তিকর ধারণা বা অলীক কিছুর সম্মুখীন হন।সুইডেনের মনোচিকিৎসক ইউজেন ব্লিউলার ১৯১১ সালে ‘সিজোফ্রেনিয়া’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। শব্দটি এসেছে মূলত গ্রিক ভাষা থেকে। গ্রিক শব্দ ‘স্কিজো’ ও ‘ফ্রেন’- এই দুই শব্দ নিয়ে গঠিত হয় ‘সিজোফ্রেনিয়া’ শব্দটি। ‘স্কিজো’ শব্দের অর্থ ভাঙা বা টুকরো অথবা বিভক্ত। দ্বিতীয় অংশ হলো ‘ফ্রেন’ অর্থাৎ মন। তাই ‘সিজোফ্রেনিয়া’র পুরো শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায় ভাঙা মন বা যে মন টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মনোচিকিৎসক ব্লিউলারের থিউরি অনুসারে, যখন আমাদের মস্তিস্কের কর্ম পদ্ধতি বোধশক্তি এবং বাস্তবতা কে চিন্তা শক্তিতে নিয়ে এক করে, মিল রাখতে পারে না তখনই সিজোফ্রেনিয়া অসুখটির শুরু। রোগটি হলে মানুষ কোন কিছু সহজে মনে রাখতে পারে না। পুরুষ-নারী উভয়ের সমানভাবে হয়। তবে পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এ রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি একশ জনের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়। যে কোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে তাদেরই বেশি হয়। বয়স ৪০-এর ওপরে গেলেও সিজোফ্রেনিয়া হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে মা এবং সন্তান দুজন-ই ভুগতে পারে জটিল এ রোগে।বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইক্রিয়াট্রিস্ট বলছে রোগটি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ২০ বছর বয়সের শুরুর দিকে এই রোগে আক্রান্তের হার বেশি। তবে ৪৫-এর পর এটা কমে যায়। ৫০ বছরের পর আর হয় না। ৫৫ বছরের পর নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব কম। সিজোফ্রেনিয়া রোগের লক্ষণ ১। রোগী অবাস্তব বা কাল্পনিক জিনিস দেখতে বা শুনতে পান (হ্যালুসিনেশন)। ২। অমূলক সন্দেহ করা। যেমন কেউ তার ক্ষতি করতে বা ষড়যন্ত্র করতে চাইছে, এমন ভ্রান্ত বিশ্বাস (ডিলিউশন)। ৩। অসংগঠিত চিন্তা, অসংলগ্ন কথা বলা এবং এলোমেলো আচরণ করা। ৪। সিজোফ্রেনিয়ার রোগীর স্মৃতিশক্তি দুর্বল। উদাসীনতা থাকায় তাদের জ্ঞানীয় সমস্যা বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। ৫। গুছিয়ে কাজ করতে সমস্যায় পড়েন। আরও পড়ুন: হার্ট দুর্বল কি না বুঝে নিন ৫ লক্ষণে ৬। নির্দেশনা মনে রাখতে বা তাৎক্ষণিক স্মৃতি ধরে রাখতে হিমশিম খান। ৭। নতুন কিছু শিখতে বা যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পান। ৮। আবেগ প্রকাশে অক্ষমতা বা মুখভঙ্গিহীনতা। ৯। স্বাভাবিক কাজকর্মে আগ্রহ হারানো এবং সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া। ১০। ওজন কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, ক্লান্তি, পেশী ব্যথা এবং মাথা ব্যথা মানসিক অসুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সিজোফ্রেনিয়া কেন হয় রোগটির নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে রোগটির শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়- ১। বংশগত কারণ: পরিবারে কারও এই রোগ থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। ২। মস্তিষ্কের গঠন: মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদানের (যেমন ডোপামিন) ভারসাম্যহীনতায় এ রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ে। ৩। পরিবেশগত চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শৈশবের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ বা কোনো ট্রমায় এ রোগে আক্রান্তের শঙ্কা বাড়ে। ৪। ভিটামিনের ঘাটতি: শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবে বিশেষ করে ভিটামিন ডি এর অভাবে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আরও পড়ুন: অনিদ্রা দূর করবে ৫ খাবার মুক্তির উপায় সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না যে তারা অসুস্থ。তাই পরিবারের কারও মধ্যে এমন লক্ষণ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা না করে দ্রুত একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। রোগীকে স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরিয়ে আনতে তার সাথে পরিবারের সদস্যদের আচরণ স্বাভাবিক রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি পুষ্টিকর ও ভিটামিনযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনে রোগী এ রোগ থেকে ধীরে ধীরে আরোগ্য লাভ করেন।

Go to News Site