Collector
তথ্য-পরিসংখ্যান বিকৃতির সংস্কৃতি রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত: তথ্যমন্ত্রী | Collector
তথ্য-পরিসংখ্যান বিকৃতির সংস্কৃতি রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত: তথ্যমন্ত্রী
Jagonews24

তথ্য-পরিসংখ্যান বিকৃতির সংস্কৃতি রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিসংখ্যান ও তথ্যের ম্যানিপুলেশন রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করা হলে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়। রোববার (৭ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান। রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের আয়না, রাষ্ট্রের আয়না। কিন্তু আয়নাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে প্রকৃত চিত্রও বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হবে। তাই গণমাধ্যমের নিজস্ব কাঠামোগত দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু তথ্য প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হয়। তবে তথ্য গোপন রাখাও কোনো সমাধান নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে না। রাষ্ট্র, সমাজ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যতটুকু সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, ব্যাংক খাতেও তার প্রতিফলন ঘটবে। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতা থাকলে গণমাধ্যম একা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে গণমাধ্যম আজ যে ভূমিকা রাখতে পারছে, সেটি আমাদের অর্জন। আর যেখানে ঘাটতি রয়েছে, তা মূলত জাতীয় পর্যায়ে সুশাসনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। পরিসংখ্যান ও তথ্যের অপব্যবহারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে পরিসংখ্যান ব্যুরো বা তথ্যপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তথ্য ও পরিসংখ্যানকে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করার সংস্কৃতি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, আমার যদি একটি নির্দিষ্ট ফলাফল দেখানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী পরিসংখ্যান সাজিয়ে দেওয়া হবে এটা হতে পারে না। দিবালোকে রাত কিংবা সূর্য ওঠার পরও সূর্য ওঠেনি বলা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক প্রবণতা। মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের ঘটনা কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি ঘটায়নি; এগুলো মানুষের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে। তাই সমস্যাকে ব্যক্তি নয়, সামগ্রিক ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সিস্টেমের মধ্যে যদি দুর্বলতা থেকে যায়, তাহলে যে কেউ সুযোগ পেলে তথ্য বদলাতে, পরিসংখ্যান পরিবর্তন করতে কিংবা বাস্তবতা আড়াল করতে সক্ষম হবে। এজন্য ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যম, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, বিআইবিএম এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরএফ সদস্য ওবায়দুল্লাহ রনি এবং সানাউল্লাহ সাকিব (তনু)। ইএআর/এমআরএম

Go to News Site