Jagonews24
বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, সরকার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জবাবদিহিমূলক শাসন প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। টিআইবির মূল্যায়নে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান ও গণআন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সে প্রত্যাশা সামনে রেখে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলেও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জ সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি গাড়ি ও বিভিন্ন সুবিধা সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল গ্রহণ না করা এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কিছু নজরদারিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মতো উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ এখনো প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। আরও পড়ুনফ্যামিলি কার্ড থেকে খাল খনন, ১০০ দিনে কী করলো বিএনপি সরকার টিআইবি বলেছে, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখারও অভাব রয়েছে। ফলে সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টিকে আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনে সীমিত সংশোধন আনা হলেও নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব বাড়াতে পারে এমন কিছু বিধানও বহাল রাখা হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করলেও রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, স্থানীয় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের অভিযোগও পুরোপুরি দূর হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে টিআইবি বলেছে, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ থাকলেও পরিবহন, বাজার ও ব্যবসা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি একজন মন্ত্রীকে চাঁদাবাজি বৈধতার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জুলাই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর আঘাত এবং সহিংস ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, এসব ঘটনা মুক্তচিন্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সার্বিক মূল্যায়নে টিআইবি বলেছে, সরকারের ১০০ দিন একদিকে আশাব্যঞ্জক কিছু উদ্যোগের সাক্ষ্য বহন করলেও অন্যদিকে সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্পষ্ট ঘাটতি রয়ে গেছে। সংস্থাটি সংস্কার কার্যক্রমে আরও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আমরা ভালো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো ধারা দেখতে পাচ্ছি। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে এমন কিছু আইন তৈরী করা হয়েছে। সরকার গঠনের পর এমন কিছু নিয়োগ হয়েছে যেগুলো স্পষ্টত দলীয়করণ৷ এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত,সরকার এগুলো অ্যাভোয়েড করতে পারতো। এনএস/এসএনআর
Go to News Site