Jagonews24
দিনভর কাজের ক্লান্তি দূর করতে রাতে ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায়। এর পেছনে মানসিক চাপ, জীবনযাত্রার অভ্যাস কিংবা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবারে কী খাচ্ছেন, তার সঙ্গে ঘুমের গুণগত মানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে রাতের খাবার যদি খুব ভারী বা অতিরিক্ত আমিষ নির্ভর হয়, তাহলে তা ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণাও এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। গবেষকদের মতে, রাতের খাবারে প্রাণিজ প্রোটিনের তুলনায় উদ্ভিজ্জ বা প্ল্যান্ট প্রোটিন বেশি থাকলে ঘুমের মান ভালো হতে পারে। গবেষণায় যা বলছে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথভাবে পরিচালিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছেইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে, খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকরা প্রায় ১৩০ ধরনের খাবারের পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, দিনে মোট কতটা প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কোন ধরনের প্রোটিন খাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন নাকি প্রাণিজ প্রোটিন, এই বিষয়টি ঘুমের মানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিরামিষ খাবার ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে ভালো ঘুমের জন্য শরীরে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন তৈরি হয় ট্রিপটোফান নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থেকে। ট্রিপটোফান বিভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে পাওয়া যায়।গবেষকদের মতে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে এমন কিছু উপাদান থাকে যা ট্রিপটোফানকে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সহায়তা করে। ফলে শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদন বাড়তে পারে, যা ঘুমকে আরও গভীর ও স্বস্তিদায়ক করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্রাণিজ প্রোটিনে ট্রিপটোফানের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা কখনো কখনো ট্রিপটোফানের কার্যকারিতাকে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরির প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। রাতে কোন খাবারগুলো বেশি উপকারী? রাতের খাবারে ডাল, শাকসবজি, মসুর ডাল, ছোলা, মুগ ডাল, বিভিন্ন ধরনের সবজি, সয়া জাতীয় খাবার এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস রাখতে পারেন। এসব খাবার তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয় এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে না। গরমের সময় নিরামিষ খাবার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং হজমপ্রক্রিয়াও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে রাতে ঘুমানোর সময় অস্বস্তি কম হয়। রেড মিট যেসব সমস্যা তৈরি করতে পারে প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে রেড মিট বা লাল মাংসের ক্ষেত্রে। গরু ও খাসির মাংস হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। রাতে এসব খাবার বেশি পরিমাণে খেলে অনেকের অম্বল, বদহজম বা পেট ভার লাগার সমস্যা হতে পারে। এই ধরনের হজমজনিত অস্বস্তি ঘুমের মান কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি রেড মিটে থাকা প্রোটিনের গঠনও ঘুমের জন্য ততটা সহায়ক নয় বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব প্রাণিজ প্রোটিনকে এক কাতারে ফেলা যাবে না। মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কিংবা মুরগির মাংসের মতো লিন প্রোটিন তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য। তাই এগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম হতে পারে। ঘুম ভালো রাখতে যা করবেন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত তেল-মসলা, ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলাও জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। রাতের খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, ভালো ঘুমের সঙ্গেও জড়িত। গবেষণা বলছে, রাতের খাবারে নিরামিষ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ালে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তাই যদি ঘুমের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে রাতের খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন এনে দেখতে পারেন। সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন, এনডিটিভি ও অন্যান্য আরও পড়ুন:বেশি মাংস খেয়ে বদহজম? জেনে নিন দ্রুত সমাধানকখন চা পান করলে কী উপকার পাওয়া যায় এসএকেওয়াই
Go to News Site