Somoy TV
নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল হামিদ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ছুটিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের মৃত মেহের আলী শাহের ছেলে।এ দিকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে।আটকরা হলেন: হায়দার আলী শাহ (৬২), আপেল মাহমুদ (২৫), আলেফা বিবি (৫০) ও আব্দুল মতিন (৪০)।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল হামিদের সঙ্গে শরিকান জমি নিয়ে প্রতিবেশী হায়দার আলী শাহের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন।আরও পড়ুন: ঘরের মেঝেতে পড়েছিল ফিমার মরদেহ, মোটরসাইকেল না পেয়ে হত্যার অভিযোগরোববার সকালে হায়দার আলী শাহের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই বিবদমান জমি জোরপূর্বক দখল ও হালচাষ করতে যান। এ সময় আব্দুল হামিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল হামিদের মৃত্যু হয়।স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আব্দুল হামিদের জমি জবরদখল করতে হায়দার আলী সংঘবদ্ধ হয়ে হালচাষ করতে গিয়েছিলেন। আব্দুল হামিদ নিজের জমি রক্ষা করতে বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।’নিহত বৃদ্ধের পুত্রবধূ রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘জমির মামলাটি মীমাংসা না হতেই হায়দার, মতিন, আপেল ও আলেফা আমাদের জমিতে জোর করে হালচাষ করতে আসেন। আমার শ্বশুর ও পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ওরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। একপর্যায়ে হায়দারের ছেলে আপেল একটা মোটা লাঠি দিয়ে আমার শ্বশুরের পাঁজরে সজোরে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গেই ওনার মৃত্যু হয়। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যামান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত আব্দুল হামিদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
Go to News Site