Collector
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ১৪০০ কিমি পাড়ি দিয়ে শিক্ষিকাকে হত্যা করলো দম্পতি | Collector
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ১৪০০ কিমি পাড়ি দিয়ে শিক্ষিকাকে হত্যা করলো দম্পতি
Jagonews24

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ১৪০০ কিমি পাড়ি দিয়ে শিক্ষিকাকে হত্যা করলো দম্পতি

কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে গিয়ে এক কলেজ শিক্ষিকাকে হত্যা করেছে এক দম্পতি। হত্যাকাণ্ডের পর তারা নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে। নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজের ফ্ল্যাটে একা থাকতেন তিনি। বুধবার (৩ জুন) সেখানে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। দম্পতিকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে। পরে তাদের দিল্লিতে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ড চাইতে পারে দিল্লি পুলিশ। সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা পুলিশ জানিয়েছে, দেবস্মিতা পাল তার নানার মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে একটি মূল্যবান সম্পত্তির মালিক হন। ওই সম্পত্তির বাজারমূল্য কয়েক কোটি রুপি। গ্রেফতার হওয়া দম্পতি ওই সম্পত্তির একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু দেবস্মিতা পাল তাদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রামপ্রসাদ ও বনশ্রী। যেভাবে দিল্লিতে গিয়ে হত্যা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে দিল্লিতে আসেন। তারা পরিচিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করার অজুহাত তৈরি করেন। দেবস্মিতা পাল ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একাই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। তার স্বামী বেঙ্গালুরুতে ছিলেন। বুধবার (৩ জুন) সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরে অভিযুক্তরা একটি ব্যক্তিগত ক্যাবে করে অ্যাপার্টমেন্টে আসেন। সন্দেহ এড়াতে তারা নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও সঙ্গে আনেন। কয়েকটি ব্যাগ হাতে নিয়ে তারা সিঁড়ি ব্যবহার করে ষষ্ঠ তলায় ওঠেন। পুলিশের দাবি, পরিচিত হওয়ায় তারা সহজেই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর সঙ্গে আনা একটি অস্ত্র ব্যবহার করে দেবস্মিতা পালকে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর পোশাক পরিবর্তন করে তারা আবার বেরিয়ে আসের ও নিচে অপেক্ষমাণ ক্যাবে উঠে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। তিন দিনেই রহস্য উদঘাটন হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। প্রথমে ক্যাবচালককে আটক করা হয়। পরে তার যাত্রা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যাত্রীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। বুধবার (৩ মে) আবাসিক কমপ্লেক্সে প্রবেশ করা প্রায় ২০০ জনের তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখান থেকে ১৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের সাতটি দল চারটি রাজ্যে অভিযান চালায় ও শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলে। তদন্তের একপর্যায়ে বর্ধমানে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। যেভাবে উদ্ধার করা হয় শিক্ষকের মরদেহ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেবস্মিতার বোন দেবারতি পুলিশকে জানান, তার বোনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দেবারতি শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানেই তিনি বোনের মরদেহ দেখতে পান। তদন্তকারীরা জানান, দেবস্মিতার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পাশাপাশি তার কবজির শিরাও কাটা ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘটেনি। কারণ ফ্ল্যাটে থাকা গয়না ও নগদ অর্থ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। বর্তমানে গ্রেফতার দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ

Go to News Site