Somoy TV
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ‘এমভি আব্দুল হাকিম-১’ নামে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ও লুটপাট করেছে বনদস্যুরা। পাশাপাশি আরও চারটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছে।শনিবার (৭ জুন) রাতে বাগেরহাটের সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রেটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো। জাহাজগুলো হচ্ছে: এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি আব্দুল হাকিম-১।এ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাজগুলো খালি ছিল। এগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার বেলা ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা দিয়ে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতরা হানা দেয়।’আরও পড়ুন: মেঘনায় ফিল্মি স্টাইলে ২ ট্রলারে ডাকাতিতিনি আরও বলেন, ‘শিপসা নদীর পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখালের ভেতর ঢুকামাত্র ডাকাত দল ধাওয়া করে। সামনে থাকা চারটি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে ছিল এমভি আব্দুল হাকিম-১। এ জাহাজে উঠে পড়ে ডাকাতরা। তারা জাহাজে উঠেই স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি করে।’এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবী বরাতে সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ট্রলারে আসা ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত জাহাজের বাম পাশ থেকে ওপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ও মারধর করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেইট আটকে দেয়। ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫-২০ রাউন্ড শটগানের গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে। স্টাফদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।’আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে চার ট্রলারে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮এ বিষয়ে নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আর চলতে চাই না।’তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজ জোয়ার ভাটা হিসাব করে চলতে হয়। এতে সকাল সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশের এই পথে আমরা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানারও এমন কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেছে।
Go to News Site