Jagonews24
রাজধানীর মতিঝিলে রোববার (৭ জুন) বিকেলে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ টাকার ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে। এ ঘটনায় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী লোকমান হোসেনকে আগে থেকেই অনুসরণ ও রেকি করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে— গুলিবিদ্ধ লোকমান হোসেনের কোনো নির্দিষ্ট অফিস ছিল না। তিনি মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন। সবসময় তার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ অর্থভর্তি ব্যাগ থাকতো। এ তথ্য ছিনতাইকারীদের জানা ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, তারা দীর্ঘদিন লোকমানকে অনুসরণ করছিল এবং তার গতিবিধির ওপর নজর রেখে রেকি করেছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন— ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ১৭ হাজার মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ছিল। তবে ব্যাগে মোট কত টাকার সমপরিমাণ অর্থ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরও পড়ুনমতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার লুট ঢাকাসহ কয়েক জেলায় ভূমিকম্প পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে নটরডেম কলেজ সংলগ্ন সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলেন লোকমান হোসেন। পথে মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এলে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত ছয়জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ও শত মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও ছিনতাইকারীরা সরাসরি লোকমানকে টার্গেট করে হামলা চালায়। গুলি করে তাকে আহত করার পর তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। লোকমান হোসেনের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। এর মধ্যে দুটি পায়ে এবং একটি হাতে বিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত লোকমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্তকরণ এবং ছিনতাইকারীদের গতিবিধি অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ বলছে, টার্গেট করে হামলা চালানোর ধরন এবং ঘটনাস্থলে অপরাধীদের কৌশল বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ ছিনতাই বলে মনে হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, বৈদেশিক মুদ্রা বহনের তথ্য নিশ্চিত হয়েই ছিনতাইকারীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এ হামলা চালিয়েছে। টিটি/কেএসআর
Go to News Site