Jagonews24
ভারত সীমান্তঘেঁষা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাম্বুরাছড়া গ্রামের বয়স প্রায় একশ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ বসবাস করলেও উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি এ জনপদে। এ গ্রামে নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেই নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রও। বর্ষা এলেই কাদা ও পানিতে ডুবে যায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ—তিন মৌলিক সেবাতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সীমান্তবর্তী এ গ্রামের বাসিন্দাদের। জানা যায়, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জাম্বুরাছড়া। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘দ্বীপ গ্রাম’ নামেও পরিচিত। শহর থেকে হুগলিয়া বাজার পর্যন্ত পাকা সড়ক থাকলেও সেখান থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ এখনো কাঁচা। সরেজমিনে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে মোটরসাইকেল কিংবা জিপ চলাচল করলেও বর্ষা এলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। তখন গ্রামবাসীদের হাঁটাচলাই হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় একশ বছর আগে কয়েকটি কৃষক পরিবার এখানে বসতি স্থাপন করে। গ্রামের দুই পাশে ভারতীয় সীমান্ত, এক পাশে রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং অন্য পাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বাড়লেও উন্নয়ন পৌঁছায়নি সেই তুলনায়। জাম্বুরাছড়া গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন জানান, গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এখানকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া দুরূহ ব্যাপার। বিশেষ করে নারী শিক্ষার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। গ্রামে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর হার এখন শতকরা মাত্র ২৫ শতাংশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর কোনো গ্রামে এতো কম শিক্ষিত মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। প্রাইমারি শিক্ষা শেষ করে হাইস্কুলে পড়ালেখা করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা এ গ্রামে এখনো হাতেগোনা। শ্রীমঙ্গল সিন্দুরখাঁন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন জানান, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার দরখাস্ত করেছি কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য কিন্তু সরকারি বরাদ্দ পাইনি। এই গ্রামের রাস্তা পাকা হলে দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ রাস্তার জন্য একটি বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন আছে। চলতি অর্থবছরেই এ রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে খুব দ্রুতই করার চেষ্টা করছি। মাহিদুল ইসলাম/কেএইচকে/এএসএম
Go to News Site