Jagonews24
ময়মনসিংহের বহুল আলোচিত পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পার হয়েছে। অথচ এখনও এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার শিকার দিপুর পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছে। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক অনটনে পড়েছে। নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় তাকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। জানা যায়, এ ঘটনায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তদন্তকারী সূত্র জানায়, পুলিশ এ পর্যন্ত ২৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া সব আসামিই কারাগারে রয়েছেন। নিহতের স্ত্রী মেঘনা রানী বলেন, স্বামীকে হারানোর শোক কখনোই কাটবে না। ছোট মেয়েকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। তবে শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। দিপুর মা বলেন, ঘরের প্রতিটি কোণে ছেলের স্মৃতি। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখলেই বুক ফেটে কান্না আসে। মৃত্যুর আগে শুধু আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার মৃত্যুতে পরিবারে আর্থিক সংকটও বেড়েছে। আমরা এখনো বিচার পাওয়ার আশায় আছি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তোয়াবুল ইসলাম খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, জব্দ করা ভিডিও এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তের অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া ২৯ জনই কারাগারে রয়েছেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দিপু হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি ময়মনসিংহের আদালত থেকে জামিন পাননি। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া দুই আসামির জামিনও পরে বাতিল হয়েছে। হোসাইন সুলভ/কেএইচকে/এএসএম
Go to News Site