Jagonews24
বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের পোস্টার বয় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। বয়স মাত্র ২৭, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন মার্কিন ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা। পেনসিলভানিয়ার ছোট শহর হার্শি থেকে উঠে আসা এই উইঙ্গারকে ভক্তরা ডাকেন ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ নামে। যদিও এই উপাধি নিয়ে বরাবরই কিছুটা লাজুক পুলিসিক। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভরসা যে তিনিই, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ভক্তের চোখ থাকবে এসি মিলানের এই তারকার দিকে। গতি, ড্রিবলিং আর ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা অ্যাটাকিং খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে মার্কিন ফুটবলের সেরা সফলতা ক্লাব ফুটবলে পুলিসিকের মতো সফল মার্কিন খেলোয়াড় আর কেউ নন। ২০২১ সালে চেলসির হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। তিনিই প্রথম মার্কিন ফুটবলার, যিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছেন এবং শিরোপা জিতেছেন। পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি বুন্দেসলিগায় অভিষেকের পর থেকেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে থাকেন। এরপর চেলসি হয়ে বর্তমানে খেলছেন ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানে। ডর্টমুন্ড, চেলসি ও মিলান- এই তিন ক্লাব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি বড় শিরোপা জিতেছেন পুলিসিক। কনকাকাফে যুক্তরাষ্ট্রের নায়ক ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা থেকেই যেন নতুন করে জ্বলে ওঠেন পুলিসিক। কনকাকাফ নেশনস লিগের প্রথম তিনটি আসরেই যুক্তরাষ্ট্রকে শিরোপা জিততে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে ২০২১ সালের ফাইনালে মেক্সিকোর বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে করা পেনাল্টি গোলটি মার্কিন ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়ার বিপক্ষে চাপের মুখে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে জেতান পুলিসিক। কেন এত ভয়ংকর পুলিসিক? গতি ও ড্রিবলিংই পুলিসিকের সবচেয়ে বড় শক্তি। হঠাৎ গতি বাড়ানো কিংবা কমানোর দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে ফেলেন তিনি। ছোট জায়গায় বল নিয়ন্ত্রণ, ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠা এবং গোল তৈরির ক্ষমতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের প্রাণভোমরা। পুলিসিককে নিয়ে তারকাদের মন্তব্য সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ পুলিসিককে নিয়ে বলেছিলেন, ‘সে ক্যাপ্টেন আমেরিকা নামে পরিচিত হতে চায় না। কিন্তু সত্যি হলো, সে-ই ক্যাপ্টেন আমেরিকা।’ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোচ মউরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘পুলিসিক আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে ইউরোপে দারুণ খেলছে, জাতীয় দলেও পারফর্ম করছে।’ বিশ্লেষক তিয়াগো লিয়ালের মতে, ‘পুলিসিক শুধু আক্রমণে নয়, রক্ষণেও দলের জন্য কাজ করে। তার ওয়ার্করেট অসাধারণ।’ মার্কিন কিংবদন্তি ল্যান্ডন ডোনোভান তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘আমরা যেভাবে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সকে স্বাভাবিক ধরে নিই, ঠিক সেভাবেই পুলিসিকের পারফরম্যান্সকেও স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছি।’ মজার কিছু তথ্য * পুলিসিকের বাবা-মা মার্ক ও কেলি দুজনই কলেজ ফুটবল খেলেছেন।* ফুটবলের পাশাপাশি ছোটবেলায় বাস্কেটবলও খেলতেন তিনি। এমনকি ডাঙ্কও করতে পারেন।* পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা হলেও তিনি এনএফএলের নিউইয়র্ক জেটসের সমর্থক।* দাদার সূত্রে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নেন।* ২০১৪ সালে ডর্টমুন্ড আসলে অন্য এক মার্কিন প্রতিভাকে দেখতে গিয়েছিল; কিন্তু নজর কাড়েন পুলিসিকই। এরপর দ্রুতই তাকে দলে নেয় জার্মান ক্লাবটি। রেকর্ড ও পরিসংখ্যান * ১৭ বছর ২৫৩ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েন।* বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা তিনি।* ২০ বছর ৬৩ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হন।* প্রথম মার্কিন খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে খেলেন এবং শিরোপা জেতেন।* কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে দুটি ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জেতেন। মেসি ও এমবাপ্পের পর যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে পুলিসিক এখন পর্যন্ত মাত্র একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন পুলিসিক। তবে কাতার ২০২২-এ তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণভোমরা। চারটি ম্যাচের সবকটিতেই শুরু থেকে খেলেন এবং দলের তিনটি গোলেই অবদান রাখেন। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে টিমোথি উইয়ার গোলে অ্যাসিস্ট করেন। এরপর ইরানের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ষোলোতে তোলেন। সেই গোল করতে গিয়ে চোট পেলেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে খেলেন। ওই ম্যাচে হাজি রাইটের গোলে অ্যাসিস্টও করেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে আশা ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কোচ পচেত্তিনোর সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল পুলিসিকের। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে এসি মিলানে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন তিনি। ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হবেন পুলিসিক। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ- এটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’কে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। আইএইচএস/
Go to News Site