Collector
বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পথে সরকার, অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কর্মপরিকল্পনা | Collector
বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পথে সরকার, অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কর্মপরিকল্পনা
Somoy TV

বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পথে সরকার, অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কর্মপরিকল্পনা

দেশকে সত্যিকারের কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাস্তবায়নযোগ্য হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতেই সাজানো হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে রাখার বিপরীতে সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যয় কাঠামোতেও আসবে গুণগত পরিবর্তনের নির্দেশনা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিল্প উৎপাদননির্ভর বিনিয়োগে জোর দিতে চায় সরকার।রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে একটি মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই অংশ হিসেবে কৃষকদের ঋণ মওকুফ করে স্বস্তি দেয়া হয়েছে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা চালু করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় আসছে বাজেটেও থাকবে সবার অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের নির্দেশনা। সময় সংবাদকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে। সংকট মোকাবিলার বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফ্যামিলি কার্ডে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হয়। ভবিষ্যতে এটিকে সার্বজনীন করে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, একইভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়ানো হবে। তিনি আরও জানান, টেকসই ও জনবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিল্প উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান আসে উৎপাদন থেকে, আর উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে, আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং রফতানি বাড়বে; এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আরও পড়ুন: মানুষের কথা চিন্তা করেই বাজেট দেয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে রাজস্ব নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অর্থায়নের উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তার মতে, এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে শিল্পকারখানা সচল রাখা কঠিন হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। ড. তিতুমীর বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য; এই দুই খাতে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ কারণে ধারাবাহিকভাবে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ড. রাশেদ তিতুমীর আরও বলেন, বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৪.২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আগামী বছর তা ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল ও উন্নত বিশ্বের মূল্যস্ফীতির হার এক হবে না; এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

Go to News Site