Collector
মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য | Collector
মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
Somoy TV

মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

মা, পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও মধুর একটি শব্দ। যার কোনোই তুলনা হয় না। যিনি অতুলনীয়। বিশ্বের সকল ধর্ম বর্ণ শ্রেণি ও গোত্রে, নিশ্চয়ই মায়ের সম্মান ও মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে! এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করি!এ পৃথিবীতে যার মা নেই। সেই বোঝে মায়ের কত দাম। কত যে মূল্য মায়ের! যার মা জীবিত, সে কখনো বুঝবে না। মা হারানোর ব্যথা কী জিনিস! মায়ের আদর যত্ন স্নেহ মায়াহীন জীবনটা কত কষ্টের। কত দুঃখের! কারণ, একমাত্র মা ছাড়া স্বার্থহীন ভালোবাসা পৃথিবীর আর কারও থেকে আশা করা যায় না। এটিই চিরন্তন সত্য! যদি এর বাহ্যিক কোনো কারণ খুঁজতে হয়। তবে মনে হয়, তা হবে একজন মায়ের সার্বিক ও সর্বোচ্চ নিঃস্বার্থ অবদান। কেননা, একজন মা তাঁর সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর আলো দেখান। ঝলমলে এ জগতের আলো বাতাস দেখতে একজন মা-ই ভূমিকা পালন করেন। যা আর কারও দ্বারা সম্ভব নয়। আর কখনও হবেও না। এমনকি হবারও নয়। এরপর শৈশব থেকে কৈশোর; এমনকি যৌবনের আগপর্যন্ত মা-ই সন্তানের সার্বিক দেখভাল করেন। তিলে তিলে বড় করে তোলেন, নাড়-ছেড়া বাছাধন বুকের সন্তানকে। বুকে পিঠে আগলে রেখে মানুষের মতে মানুষ করার সর্বোচ্চ নিঃস্বার্থ শ্রমটুকুই করেন তিনি। এরপর যার অবদান, তিনি হচ্ছেন বাবা। যার স্নেহ-মায়া ভালোবাসা, অর্থ সম্পদ এবং শ্রম ও সময়ের সর্বোচ্চটুকু তিনি ব্যয় করার চেষ্টা করেন-আপন সন্তানের সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে। পড়াশোনা করিয়ে, শিক্ষা দীক্ষা দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে। সুন্দর ও স্বচ্ছল ভবিষ্যৎ গড়তে; একজন আদর্শ পিতার অবদান কোনো অংশেই কম নয় কখনোই! বিশেষত হাদিসে এসেছে, সন্তানকে আদর্শ শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়াই একজন আদর্শ পিতার উত্তম বা শ্রেষ্ঠ দান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর আমি মানুষকে আদেশ করেছি, যেন সে তার পিতা মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করে। (সুরা আনকাবুত: ০৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, আর আপনার প্রতিপালক আদেশ করছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। যদি তাদের মধ্য হতে কোনও একজন অথবা উভয়েই (তোমার জীবদ্দশায়) বার্ধক্যে পৌঁছে যায়। আরও পড়ুন: ‘বালাগাল উলা বি কামালিহি’ কবিতার অর্থ অতঃপর, তুমি তাদের জন্য 'উহ' শব্দও বলো না। আর তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে নম্রতার সাথে কথা বলো। আর তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং (তাদের জন্য বিশেষ এই) দুআ করো, হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন। (সুরা বনি ইসরায়েল : ২৩-২৪) হাদিসে এসেছে, সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা. (থেকে বর্ণনা) তিনি বলেন, এক লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন।এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! কে আমার নিকট উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি (নবীজি) বললেন: তোমার মা। লোকটি (আবার) বললো: অতঃপর কে? নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার মা। (আবারও) সে লোকটি বললো: অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললো: এরপর কে? তিনি বললেন: অতঃপর তোমার বাবা। (সহি বুখারি : ৫৯৭১) সহি বুখারির বিশুদ্ধ বর্ণনা থেকে আরও জানা যায় যে, সময় মতো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার পর মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের আমল হচ্ছে, মা বাবার সঙ্গে (কথা বার্তায় আচরণে ও কাজে) উত্তম ব্যবহার করা। এরপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে (শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ের) আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের। পবিত্র কুরআনে পিতা মাতার সঙ্গে করণীয় বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেককেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন- তন্মধ্যে উল্লেখ যোগ্য, একটি হচ্ছে, আর তোমরা তাদের সঙ্গে উহ শব্দ উচ্চারণ করো না। (সুরা বনি ইসরায়েল :২৪) উল্লেখ্য যে, যেখানে উহ শব্দ উচ্চারণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। সেখানে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা, বেয়াদবি পূর্ণ আচরণ করা, তাদেরকে সার্বিকভাবে কষ্ট দেওয়া তো কতবড় জঘন্য অপরাধ, তা বলাই বাহুল্য। এজন্য এমন অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে আমাদেরকে। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণনা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পিতা মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর পিতা মাতার অসন্তুষ্টি আল্লাহর অসন্তুষ্টি। ( সুনানে তিরমিজি : ১৮৯৯ ও সহি ইবনে হিব্বান : ৪২৯) আজকে বড় দুঃখ ও পরিতাপ নিয়ে বলতে হয় যে, আমরা আমাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই ক্ষান্ত হই না। বরং , আমরা আজ আমাদের মা বাবার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করছি। তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার তো দূরের কথা। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নির্দয় ও নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিচ্ছি। অথচ, তাদের শত ত্যাগ ও আত্মত্যাগ বিসর্জনের কারণে আজ আমরা বেঁচে আছি। এই সত্যও কী আমরা ভুলে যাচ্ছি। আমাদের মনুষ্যত্বও কী মরে যাচ্ছে? আর কবে আমরা মানুষ হবো? কখন আমাদের শুভবুদ্ধি হবে? লেখক: শিক্ষার্থী, ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল মাদরাসা, শ্রীপুর, গাজীপুর

Go to News Site