Jagonews24
ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে অবমাননার মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। কোম্পানিটির অভিযোগ, আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এনএসও আবারও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী ও প্ল্যাটফর্মকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। মেটা হলো ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা। সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, তাদের মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ এনএসও-সংশ্লিষ্ট নতুন ‘লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণামূলক’ হামলার চেষ্টা শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এনএসওকে এরই মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্ল্যাকলিস্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ কোম্পানিটি আবারও একই ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ছিল আগের মতোই ‘ওয়ান-ক্লিক ফিশিং ক্যাম্পেইন’, যেখানে ব্যবহারকারীদের একটি ক্ষতিকর লিঙ্কে ক্লিক করাতে প্রলুব্ধ করা হয়। একবার ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়, কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই। মেটা আরও জানায়, তারা এনএসও-র তৈরি কিছু টেস্ট অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ শনাক্ত করে সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে এনএসও গ্রুপ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এর আগে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওই রায়কে কোম্পানিটি নিজেদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। প্রথমে ১৬৭ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলেও পরে আদালত তা কমিয়ে ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখ ডলারে নামিয়ে আনে। তবে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এনএসও-র জন্য সবচেয়ে বড় আইনি চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে তাদের ‘পেগাসাস (Pegasus)’ স্পাইওয়্যার নিয়ে। মেটা আরও জানায়, গত মাসে ১২টি মানবাধিকার সংগঠন, নিরাপত্তা গবেষক ও ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের একটি জোট এনএসও-র আপিলের বিরুদ্ধে আদালতে মতামত জমা দিয়েছে। তারা এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এসএএইচ
Go to News Site