Jagonews24
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প জানান, আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশের পর প্রথমবারের মতো উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পিছু হটেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শত্রুতা সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। এই গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা চলমান থাকবে। এর ভিত্তিতে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে চলমান বৈঠকের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক ও পুরোপুরি নির্ভর করছে আলোচনার অগ্রগতির ওপর। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এমনকি, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আগের এক আলটিমেটামের জবাবে নতুন করে কঠোর হুমকি দেয় ইরান। সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, তাদের ভূখণ্ডে নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভাসমান নৌ-মাইন স্থাপন করে দেওয়া হবে ও বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। এ সময় সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মানচিত্রও প্রকাশ করে তেহরান, যেখানে ইসরায়েলের দুটি বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। প্রকাশিত এক গ্রাফিকে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, বিদ্যুৎকে বিদায় বলুন। এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ছিল ট্রাম্পের দেওয়া মধ্যরাতের সময়সীমা, যেখানে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলেন, না হলে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তবে তেহরান এতে সাড়া দেয়নি, বরং এরই মধ্যে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সংকীর্ণ জলপথে ট্যাংকার চলাচল সীমিত করেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা, মার্কিন কূটনৈতিক মিশন এবং ইসরায়েলের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ
Go to News Site