বড় পতনের পর এবার স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়!
Somoy TV

বড় পতনের পর এবার স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করার মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এতে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেলেও, চার মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণ।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭০.৩৬ ডলারে নেমে আসে। তবে দিনের শুরুতে এটি ৮ শতাংশের বেশি কমে সেশনের সর্বনিম্ন ৪,০৯৭.৯৯ ডলারে পৌঁছেছিল। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণ ১৯৮৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সাপ্তাহিক পারফরম্যান্স দেখেছে।একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.২ শতাংশ কমে ৪,৪৭১.৬০ ডলারে নেমেছে।হাই রিজ ফিউচারসের মেটালস ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক সেশন ধরে দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, আর রাতারাতি এই বড় দরপতন তারই ধারাবাহিকতা। এর মূল কারণ ছিল সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা।তবে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্টের পর পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে, যা ধাতু, জ্বালানি এবং শেয়ারবাজার-সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আরও পড়ুন: ডলার-বন্ড নাকি স্বর্ণ, অস্থির বাজারে কোনটি সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়?ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানির দাম বাড়ায় সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, উচ্চ সুদের হার এই ধাতুটির আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। কারণ এতে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়।ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা স্থগিত রাখবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, সপ্তাহজুড়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তবে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ হয়নি।ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ডলারের দরও দুর্বল হয়েছে। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত মূল্যবান ধাতু তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের দামে কিছুটা সহায়তা দেয়।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর থেকে স্পট স্বর্ণের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া ২৯ জানুয়ারির রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫,৫৯৪.৮২ ডলার থেকে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে দাম।অন্য ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট রুপার দাম ৩.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০.০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১,৯০১.৫৩ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১,৪৫০.৭৯ ডলারে পৌঁছেছে।

Go to News Site