Jagonews24
আগামী জুনে পর্দা উঠবে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা- তিন দেশ মিলে এবারের আসর আয়োজন করছে। আসর শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৮০ দিন। কিন্তু মেগা এই আসর শুরুর ঠিক আগে চরম অব্যবস্থাপনা আর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে। একদিকে ফান্ড নিয়ে রাজনৈতিক রেষারেষি, অন্যদিকে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের উত্তাপে নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়োসড়ো সংশয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে সরকারি অচলাবস্থা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমানবন্দরগুলোতে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে বেতন পাচ্ছেন না বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টিএসএ কর্মকর্তারা। অর্থাভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। যারা কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যেও নেই কাজের উৎসাহ। ফলে চেক-ইন কাউন্টার আর সিকিউরিটি গেটগুলোতে তৈরি হচ্ছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, টিএসএ কর্মকর্তাদের জায়গায় এখন থেকে আইসিই বা ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মোতায়েন করা হবে। তবে সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে অপ্রশিক্ষিত এবং সশস্ত্র এজেন্টদের নিয়োগ করা যাত্রীদের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশ্বকাপের ভেন্যু ও যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ ফেডারেল ফান্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সেই অর্থ এখনো ছাড় পায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফান্ডের অভাবে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন খাদের কিনারায়। এর মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক যখন যুক্তরাষ্ট্রে নামবেন, তখন তাদের সুরক্ষা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পরিবহন সচিব শন ডাফি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এসকেডি/এএসএম
Go to News Site