৪ বছরেও শেষ হয়নি হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ব্যাহত পাঠদান
Somoy TV

৪ বছরেও শেষ হয়নি হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ব্যাহত পাঠদান

চার বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গোলাবাড়ী ইউনিয়নের হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। দীর্ঘসূত্রতায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।জানা যায়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হরিনাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউ টি মং কনট্রাকশন কাজটি পায়। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি।নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো টিনশেড ভবনটি ভেঙে ফেলার পর থেকেই দেখা দেয় তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট। অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত ঘরে পাঠদান শুরু হলেও সেটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাত্র দুটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো রকমে পাঠদান চলছে। একটি ভাঙাচোরা কক্ষে অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।স্থানীয় অভিভাবক সুরেশ জ্যোতি চাকমা ও বিকাশ চাকমা জানান, বিদ্যালয়টি বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ সংকট, ঝুঁকিপূর্ণ ঘর ও মাঠের অভাবসহ নানা অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়— শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে কাদায় একাকার হয়ে যায় পরিবেশ। তারা দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শেষ করে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অরুণ জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যালয়ে পাঠদানের কোনো পরিবেশ নেই। বাঁশ ও টিনের তৈরি ঘরটি দেখলে গোশালার মতো মনে হয়। আসন্ন বর্ষার আগে ভবনের কাজ শেষ না হলে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণতি চাকমা জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।আরও পড়ুন: নীলফামারীতে মৃত্যুফাঁদে পরিণত স্কুল ভবনএদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউ টি মং কনট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ইউ টি মংয়ের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়া ঠিকাদারের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’অন্যদিকে, এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ জানান, বিদ্যালয়টি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাজ ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে কাজের গতি কমে যায়। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগিদ দেয়া হবে বলে জানান।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

Go to News Site