Somoy TV
অপ্রচলিত বাজারে কমছে তৈরি পোশাকের রফতানি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবৃদ্ধি কমেছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। রফতানিকারকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক চাহিদা কমার পাশাপাশি উচ্চ সুদহার এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ থাকায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।মার্কিন শুল্কনীতি, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রফতানি কৌশল এবং চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে বিশ্ববাজারে মন্দা চলছে। এই ধাক্কা দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকেও লেগেছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে রফতানি ৩.৩৭ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাব শীর্ষ বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের মতো বড় অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও পড়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জাপান, দেশের সবচেয়ে বড় অপ্রচলিত বাজারে, আট মাসে পোশাক রফতানি হয়েছে ৭৯ কোটি ৪২ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য; আগের বছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৮৩ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দ্বিতীয় বড় বাজার অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি কমেছে ১২.৬৮ শতাংশ এবং ভারতে ৯.৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া রাশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। আরও পড়ুন: ‘উদার বাণিজ্যনীতির’ পথে সরকার, বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাবের আশা উদ্যোক্তারা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের রফতানি খাতে। বিজিএমইর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, আমরা এখন শুধুমাত্র ইউরোপ বা আমেরিকার ওপর নির্ভর না করে নতুন বাজার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বিজিএমইএ, বিটিএমইএর মতো সংগঠনগুলো যৌথভাবে আফ্রিকা, জাপান, কোরিয়া ও ভারতে রফতানি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত যেন গতি হারাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদরা সরকারি নীতিসহায়তার তাগিদ দিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি প্যাকেজ তৈরি করে সফট লোন বা সহজ শর্তে ঋণ দেয় এবং প্রয়োজনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়, তবে এই আপৎকালীন সময় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। অর্থবছরের আট মাসে চীন, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কয়েকটি অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বেড়েছে রফতানি।
Go to News Site