Somoy TV
দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যেই সরকারের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নানা চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কিছুটা চমক দেখিয়েছে বিএনপি। তবে ভঙ্গুর অর্থনীতি সামাল দেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে তাদের সামনে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, যার ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি বড় ইস্যু মোকাবিলায় কঠিন সময় পার করতে হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে। বর্তমানে বেশি অর্থ ব্যয় করে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি উৎস জোরদার করতে হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বেশি দামে জ্বালানি কেনা সাময়িক সমাধান হতে পারে। এক মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলেও ভবিষ্যতের জন্য কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা, কয়লা আমদানি নিশ্চিত করা-এসব বিষয়ে জোর দিতে হবে। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আইএমএফের ঋণের বিষয়ে এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবে সরকার: অর্থমন্ত্রী অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিনিয়োগ, রাজস্ব আহরণ এবং আমদানি-রফতানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিনিয়োগে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনমানের অবনমন রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো গেলে ব্যয়ের চাপও সামাল দেয়া যাবে। রফতানি ও বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং কম খরচে আমদানি নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিতে হবে। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে পিছিয়ে পড়া যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণ-অভ্যুত্থানে বিপুল প্রাণহানির বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই চেতনা থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়। বড় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে নতুন সরকার কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, সেদিকে সাধারণ মানুষের নজর থাকবে বলে মনে করেন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা।
Go to News Site