Jagonews24
পবিত্র ভূমি সিনাই মরু প্রান্তরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে, ইতিহাসের গভীরতা আর আধ্যাত্মিকতার আবেশে ভরপুর এক অনন্য অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছে মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। প্রবাসে থেকেও জ্ঞানের আলোকে হৃদয়ে ধারণ করার এক মহতী প্রচেষ্টায়, মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান‘দারুল আজহার বাংলাদেশ’ আয়োজন করেছে ঈদ-পরবর্তী এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা সফর যার গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক তুর পাহাড় এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দাহাব। রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সফরে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা। এটি ছিল কেবল একটি ভ্রমণ নয়; বরং পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার এক জীবন্ত প্রয়াস—যেখানে ইতিহাস বইয়ের পাতা ছেড়ে যেন বাস্তবের মাটিতে স্পর্শ করেছে। সফরের প্রতিটি পর্বেই ছিল সুচিন্তিত পরিকল্পনার ছোঁয়া। উন্নতমানের পরিবহন ব্যবস্থা, অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রটোকল এবং মানসম্মত খাবারের সুব্যবস্থা-সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তৈরি হয় এক স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দঘন পরিবেশ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার রঙিন আয়োজন সফরে যোগ করে প্রাণের উচ্ছ্বাস। এই সফরের হৃদয়স্পর্শী কেন্দ্রবিন্দু ছিল তুর পাহাড়-যেখানে মহান আল্লাহর সাথে হযরত মূসা (আ.)-এর ঐতিহাসিক সংলাপের স্মৃতি আজও অম্লান। সেই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা অনুভব করে এক অপার্থিব প্রশান্তি, যেন ইতিহাসের প্রতিধ্বনি তাদের হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে। এছাড়াও সফরের অংশ হিসেবে পরিদর্শন করা হয় প্রাচীন সেন্ট ক্যাথরিন মোনাস্ট্রি যেখানে রয়েছে নবী মুসা আঃ এর কুয়া ও বার্নিং বুশসহ অসংখ্য বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন। বিভিন্ন মাকবারা ও ইবাদতখানায় গিয়ে শিক্ষার্থীরা অতীতের স্মৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর সংযোগ অনুভব করে। আর দাহাব-এ পৌঁছে তারা উপভোগ করে সমুদ্রের অপার নীলিমা, নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্য-যা তাদের মনকে করে তোলে প্রশান্ত ও উদ্দীপ্ত। একজন শিক্ষার্থী আবেগভরে বলেন, এটি শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং আমাদের জীবনের এক অনন্য শিক্ষণীয় অধ্যায়। ইতিহাসকে এত কাছ থেকে অনুভব করা সত্যিই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শায়েখ হাবিবুল বাশার আজহারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সফরের স্মৃতি তাদের জীবনজুড়ে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন-ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষামূলক ও আত্মিক বিকাশমুখী সফর ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে, ইনশাল্লাহ। এই শিক্ষা সফর কেবল একটি আয়োজন ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়-যা তাদের জ্ঞান, চেতনা ও মূল্যবোধকে করেছে আরও গভীর, আরও সমৃদ্ধ। এমআরএম
Go to News Site