Jagonews24
সময়ের সাথে সাথে যুদ্ধের ধরণ-ধারণ, অস্ত্র, কারণ সবকিছুতে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহার নিমিষেই গুড়িয়ে দিতে পারে মানুষের জীবন, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রকৃতি। চোখের সামনেই দেখছি কীভাবে ধসে পড়ছে বসতবাড়ি, দালানকোঠা, স্কুল, হাসপাতাল, বিনোদন ক্ষেত্র, প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষেত্র, জ্বালানি ক্ষেত্র এবং আরো অনেককিছু। কত মানুষ যে নিহত হচ্ছে, কতজন আহত হচ্ছে এর কোনো হিসাব নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যারা বেঁচে আছেন, তারা ভয়ে আতঙ্কে স্থবির সময় কাটাচ্ছেন। যে শিশুরা এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করছে, তাদের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিশুরা বাবা-মা ও পরিবার হারিয়ে শরণার্থীর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়, আহত হয়, শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায়। ন্যূনতম খাবারও জোটে না তাদের। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বড় হয়ে ওঠা এই বাচ্চারা জীবন থেকে ছিটকে পড়ে। এরা বড় হয় উদ্বাস্তু হিসেবে। ফিলিস্তিন, বসনিয়া, সিরিয়ার শিশুরা এর বড় প্রমাণ। যুদ্ধ কেবল মৃত্যু ঘটায় না, এটি বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দেয়। প্রকৃতিতে সাম্য ও সমতা নষ্ট করে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং মানসিক কষ্ট বা অসুস্থতা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ফল। আধুনিক যুদ্ধকৌশল, অস্ত্র বিদ্যা, পরাশক্তিগুলোকে অনেক বেশি দাম্ভিক, আগ্রাসী ও দয়ামায়াহীন করে তুলেছে। মধ্যযুগে ইংরেজ তীরন্দাজদের ব্যবহৃত দূরপাল্লার ভয়াবহ ও শক্তিশালী লংবো বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারী সাঁজোয়া ট্যাংকগুলো ছিল স্থলযুদ্ধের প্রতীক। এখন সম্মুখ সমর কমে গেছে। স্থলযুদ্ধে এর জায়গায় এসেছে ড্রোন বা মানুষবিহীন আকাশযান এমকিউ-১ প্রিডেটর। শুরুতে গোয়েন্দা নজরদারির কথা ভেবে এই ড্রোন তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু এই ড্রোনে যখন ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়, তখন এটি হয়ে উঠলো ভয়াবহ যুদ্ধাস্ত্র। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মনুষ্যবিহীন এই আকাশযান থাকায় দেশটি যুদ্ধের ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হয়ে উঠেছিল। এরপর ড্রোন আসে শুধু সামরিক পরাশক্তিধর দেশগুলোর হাতে। কিন্তু সময় ও পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন ছোট ছোট দেশ থেকে শুরু করে বিদ্রোহী, সশস্ত্রগোষ্ঠী, এমনকি জঙ্গিদের হাতেও এসব ড্রোন চলে গেছে। ফলে যুদ্ধের প্রকৃতিও বদলে গেছে। নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষণা বিভাগের পরিচালক পল শ্যারে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ড্রোনের এমন বিস্তার অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ বাণিজ্যিক ড্রোন প্রযুক্তি এতটাই সহজলভ্য যে কেউ চাইলেই কয়েক শ ডলার খরচ করে হামলা চালানোর ড্রোন তৈরি করতে পারে। কিছু সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর এমন ড্রোন আছে। মনুষ্যবিহীন আকাশযানের (ইউএভি) সুস্পষ্ট প্রভাব নিয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে পল শ্যারে বলেন, এটি (ড্রোন) একটি দেশকে সস্তায় একটি ‘বিমানবাহিনী’ তৈরি করে দেয়। আমরা দেখছি যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে ড্রোন ছোঁড়াছুঁড়ির প্রতিযোগিতা ও ক্ষতির পরিমাণ। দিনে দিনে ড্রোনকে আরো বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে, যেন এটি অনেক দূরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এগুলো এখন অনেক বেশি গোলাবারুদ বহন করতে পারে। পাশাপাশি একথাও সত্যি যে যুদ্ধাস্ত্র যতো বেশি আধুনিক হবে, যতো বেশি দেশ এগুলো ব্যবহার করবে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ততো বেশি হবে। ব্যাপারটা ভাবলে কষ্ট হয় যে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের ব্যয় যতো বাড়ছে, মানুষের জীবনের দাম ততো কমছে। মানুষ ভেবেছিল প্রযুক্তির ব্যাপক অগ্রগতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজনের ফলে বিশ্ব আরো বেশি স্মার্ট, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে, মানুষ বাঁচবে, প্রকৃতি আরো সবুজ ও সুনিবিড় হবে। কিন্তু পরিস্থিতি বিপরীত হয়েছে। ড্রোন যুদ্ধের অধ্যায়ে প্রবেশ করে পৃথিবী যেন আরো বেশি দয়ামায়াহীন হয়ে গেল। বড় বড় শক্তিশালী দেশগুলো শুধু ক্ষমতা বিস্তারের জন্য ও অন্য দেশকে শায়েস্তা করার জন্য বারবার যুদ্ধ করেই যাচ্ছে। যুদ্ধের নানাধরণের ক্ষয়ক্ষতি আছে, এই পরিণামগুলোর মধ্যে বেসামরিক জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব খুবই ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশু ও নারীর উপর। সাধারণ মানুষের উপর যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে নানাধরণের গবেষণা করা হয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয় মানসিক কষ্ট ও ট্রমার উপর। সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধের প্রভাবে কোন দেশ জয়ী হবে বা কে পরাজিত হবে, এর চাইতেও বড় কথা মানুষ ও প্রকৃতির কী লাভ হচ্ছে? পরিবেশ বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও করে, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলে বিশ্বের যে দেশগুলো আজকে হেদিয়ে মরছে, তারাই যুদ্ধের ময়দানে বেশি তৎপর। তারাই বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হামলা চালিয়ে মানবতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কী অদ্ভুত মানসিকতা আমাদের। এই ট্রমাতে বেশি ভোগে শিশু ও নারীরা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলো হলো বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। তাদের পালানোর উপায় থাকে না, আশ্রয়কেন্দ্রে তারাই বেশি কষ্ট ভোগ করেন, যুদ্ধের আঘাতে তারাই বেশি হতবিহ্বল হন। তাদের এই ট্রমার হার এত বেশি হয় যে সহসা তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। আর শিশুরাতো বুঝতেই পারে না কেন তারা পরিবার-পরিজন হারালো, কেন গৃহহীন হলো, কেন আহত হয়ে হাত-পা হারালো, কেন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল? হয়তো তারা প্রিয় স্বদেশ, প্রিয় মানুষ হারিয়ে এভাবেই উদ্বাস্তু হয়ে বড় হবে, যেমনটা হয়েছে ফিলিস্তিনের লাখ লাখ শিশু। যুদ্ধে বা যুদ্ধবিধ্বস্ত এটি দেশে টিকে থাকার কৌশল শেখার আগেই শিশুরা বাস্তুচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে যে সশস্ত্র সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শতকরা ১০ ভাগ মানুষ ট্রমার শিকার হন, পরবর্তীতে তারা গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভোগেন। অন্য ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এমন আচরণগত সমস্যা তৈরি হয় যা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে। যুদ্ধের কারণে মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশু দীর্ঘমেয়াদি ভীতি, বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অনিদ্রা, পিঠ বা পেট ব্যথাতে ভোগে। এই যে আফগানিস্তান, যেখানে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। আমরা শুধু তালেবানি রাষ্ট্র বলেই আফগানিস্তানকে জানি। অথচ কী ভয়াবহ পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষ দিন কাটাচ্ছে, তা ভেবেও দেখিনা। প্রাচীন সভ্যতার এই দেশে সব ভেঙেচুরে গেছে। নারী হয়েছে গৃহবন্দী, শিশুরা অবহেলিত ও শিক্ষাদীক্ষাহীন হয়ে বড় হচ্ছে। যুদ্ধ, হামলা, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, তালেবানি শাসন দেশটির সাধারণ মানুষকে ট্রমাটাইজড করে রেখেছে। সেখানকার অসংখ্য মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, স্ট্রেস, অভাব-অনটন তাদের তাড়া করে ফিরছে। বসনীয় শরণার্থীদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পরেও তাদের মধ্যে মানসিক ব্যাধি এবং অক্ষমতা বিদ্যমান ছিল। কসোভোর আলবেনীয়দের মধ্যে ১৭.১% পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) তে আক্রান্ত ছিলেন। পিটিএসডি হলো একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা কোনো ভয়াবহ, ভীতিজনক বা মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা যেমন, দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, সহিংসতা বা দুর্যোগের পরে তৈরি হয়। এর ফলে মানুষ দুঃস্বপ্ন দেখে, তীব্র উদ্বেগ এবং ঘটনার স্মৃতি দ্বারা বারবার আতঙ্কিত বোধ করে। প্রায় সবগুলো যুদ্ধ আক্রান্ত দেশের মানুষ পিটিএসডিতে আক্রান্ত হয়। প্যালেস্টাইন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইনস, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরানে রিজিম চেঞ্জের নামে যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ ১০-১৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ভয়াবহ রকম ট্রমা তৈরি করেছে। চিকিৎসা করিয়ে কেউ কেউ এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, কেউ কেউ এখনো ধুকছেন। অসংখ্য নারী অবমাননার শিকার হয়েছে, তাদের সুখ-শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে। শহর এলাকার শিশুদের তুলনায় শরণার্থী ক্যাম্পের শিশুরা অনেক বেশি মানসিক কষ্টে ভুগে থাকে। ইরান যুদ্ধের কারণে নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বিশ্ব, বিশেষ করে পশুপাখি প্রেমী মানুষজন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে আসা ব্রিটিশ নাগরিকরা দুবাইয়ে তাদের হাজার হাজার পোষা প্রাণীকে ফেলে যাচ্ছেন। দেশ ছাড়ার সময় অনেকেই তাদের পোষা প্রাণীদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারছেন না। একসময় তাদের পরিবার তাদের খুব ভালোবাসত। কিন্তু হঠাৎ করে মালিকরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এই প্রাণীগুলো এখন একা ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পোষা প্রাণীরা পুরোপুরি মানুষের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এরা বুঝতে পারছে না কেন এদের পরিবার এদের ছেড়ে চলে গেল। দুবাই স্ট্রিট কিটিস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তাদের প্রতিটি ঘর এখন বিড়ালে পূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য আহত ও পরিত্যক্ত বিড়াল উদ্ধারের অনুরোধ আসছে। কিন্তু জায়গা না থাকায় তারা হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনেক শেখ বা ধনাঢ্য ব্যক্তি শখের বশে বাড়িতে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা তৈরি করেছিলেন। সেখানে বাঘ, সিংহ ও চিতার মতো বিভিন্ন বন্য প্রাণী ছিল। যুদ্ধের কারণে মালিকরা দ্রæত দেশ ত্যাগ করায় বন্য প্রাণীগুলো এখন চরম বিপদে পড়েছে। বিশাল খাঁচায় বন্দি প্রাণীগুলোর নিয়মিত খাবার ও সঠিক যত্নের অভাব দেখা দিয়েছে। এই বিশাল বন্য প্রাণিগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা জায়গার এখন বেশ অভাব দেখা দিয়েছে। পৃথিবীতে এত যুদ্ধ হয়েছে কিন্তু কয়টি যুদ্ধ মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পেরেছে? বরং যুদ্ধ পৃথিবীতে চরম ধ্বংসযজ্ঞ, মানবিক বিপর্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। মানুষের মৃত্যু, ব্যাপক সম্পদহানি, উদ্বাস্তু সমস্যা, মহামারি, সভ্যতা-সংস্কৃতি ধ্বংস, ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে অনেক ক্ষেত্রেই সশস্ত্র ড্রোনের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে, কিন্তু মানুষের উন্নতি, সুখ, শান্তি নষ্ট করছে এই মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র। প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ, সংঘাত, লড়াই কিংবা শুধু নজরদারির জন্য মনুষ্যবিহীন এসব আকাশযান বিভিন্ন পক্ষের হাতে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। বিশ্বের শতাধিক দেশ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে এখন ড্রোন রয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক পক্ষ সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে, যার যোগফল শূন্য বা বিয়োগান্ত। সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধের প্রভাবে কোন দেশ জয়ী হবে বা কে পরাজিত হবে, এর চাইতেও বড় কথা মানুষ ও প্রকৃতির কী লাভ হচ্ছে? পরিবেশ বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও করে, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলে বিশ্বের যে দেশগুলো আজকে হেদিয়ে মরছে, তারাই যুদ্ধের ময়দানে বেশি তৎপর। তারাই বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হামলা চালিয়ে মানবতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কী অদ্ভুত মানসিকতা আমাদের। লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক। এইচআর/এমএস
Go to News Site