Jagonews24
তিন দিন বন্ধ থাকার পর গাইবান্ধা জেলা শহরের দুটি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় তেল নিতে হলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে হচ্ছে। নিয়ম না মানলে তেল না দেওয়ার পাশাপাশি করা হচ্ছে জরিমানা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে শহরের ডিবি রোডের ‘এসএ কাদির অ্যান্ড সন্স’ এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘আর রহমান ফিলিং’ স্টেশনে প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই তেল বিক্রি শুরু হয়। এদিকে তেল দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে শত শত বাইকার পাম্পে ভিড় করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাননি। বিশেষ করে যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনেননি, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংকট নিরসনে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়িতে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার করে জ্বালানি দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে চালকদের হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। অন্যথায় তেল দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে জরিমানার আওতায় নেওয়া হবে। এসএ কাদির অ্যান্ড সন্স পাম্পের ম্যানেজার মঞ্জরুল কাদির খোকন বলেন, ৪০০০ লিটার পেট্রোল এসেছে এবং তারপর একটি ডিজেলের গাড়িও এসেছে। তিনদিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় আজ এই তেল দিতে পারছি আমরা। তবে অপেক্ষমাণ একাধিক বাইকার বলছেন, হঠাৎ করে এমন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় তারা প্রস্তুত ছিলেন না। কেউ কেউ দুপুর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন। নিলয় নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আসলে শাক দিয়ে কখনও মাছ ঢাকা যায় না। তেমনি তেল সংকটের বিষয়টা স্বীকার না করে নানান ধরনের নিয়ম বেঁধে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। রুম্মান নামের অপর এক যুবক বলেন, হঠাৎ করে গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে। বাসায় থেকে গাড়ির কাগজ নিয়ে এসে তেল নেওয়াটা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, সংকটের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত চাহিদা এবং কিছু অসাধু চক্রের তৎপরতা। তারা বাইকে একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে নেয়। পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করছেন। এ কারণে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছাড়া তেল বিক্রি করা তাদের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পাম্প মালিকদের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি পাম্পে জ্বালানি বিতরণের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত থাকবে। একই সঙ্গে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়। গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, তেল সংকটে জেলার সবগুলো পাম্পই বন্ধ। তবে গতকাল বিকেলের দিকে জেলা শহরের কাদিরিয়া পাম্পে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। এদিকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, গাইবান্ধায় তেলের সংকট ও কালোবাজারে বিক্রিসহ সামগ্রিক বিষয়ে গতকাল পাম্প মালিকপক্ষের সঙ্গে জরুরি মিটিং হয়েছে। সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ডিপো ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে/এমএস
Go to News Site