Somoy TV
বর্ষায় পানি প্রভাব না থাকায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে চলনবিল। বর্ষায় কচুরিপানার কারণে বাড়ছে ফসল উৎপাদনের খরচ। পাশাপাশি প্রতিবছর বাড়ছে অনাবাদি থাকা জমির আয়তন।চলতি বোরো মৌসুমে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ১ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করা সম্ভব হয়নি। কৃষি বিভাগ বলছে, চলনবিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বাড়ছে কৃষকদের দুর্ভোগ। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের সমীক্ষার প্রতিবেদন না পর্যন্ত বিভিন্ন দফতর চলনবিল নিয়ে কাজ শুরু করতে পারছে না।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নাটোরের সিংড়া উপজেলার জলারবাতা এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের সিংড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় কচুরিপানার ভরে থাকে। বিঘা প্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ পরিষ্কার করে জমিগুলো আবাদি উপযোগী করা হয়েছে। তবে জলারবাতার এই জমিগুলোতে বেশি পরিমাণ কচুরিপানা থাকায় পরিষ্কার করতে সময় বেশি লেগেছে। কচুরিপানা পরিষ্কার হলেও বর্ষা কালের প্রায় দেড় মাস বাকি এগুলো আবাদ করা সম্ভব না।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সিংড়া উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ১০০ বিঘা জমিতে বোরো মৌসুমের ধান আবাদ করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় কৃষকরা জানায়, চলনবিলের খাল ও নদীর গভীরতা না থাকার পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। কৃষকরা এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।জলারবাতার এলাকার কৃষক রহিম বলেন, ‘৪-৫ বছর ধরে চলনবিলের কচুরিপানা নিয়ে তারা বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্ষায় চলনবিলের পানি প্রবাহ না থাকায় প্রতিবছর অনাবাদি জমির সংখ্যা বাড়ছে। জলারবাতার এই বিলে ৭ বিঘা জমিতে চলতি বছর কোনো ফসলই আবাদ করা সম্ভব হয়নি।’সাতপুকুড়িয়া এলাকার রুবেল বলেন, ‘বর্ষায় কচুরিপানা বেড়ে যাওয়ায় বোরো মৌসুমে জমি প্রস্তুত করার আগেই কচুরিপানা সরাতে বিঘা প্রতি অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। চলনবিল আগের অবস্থায় না আসলে তাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি হবে। কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের কাছে দাবি জানাই।’নিঙ্গুন এলাকার শাহীন বলেন, ‘চলনবিলে অপরিকল্পিত রাস্তার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে এই অবস্থা। এছাড়া চলনবিলের খাল ও নদীগুলো মৃত প্রায়।’আরও পড়ুন: ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা, দিশেহারা হালতি-চলনবিলের কৃষকএসব কারণে তাদের দুর্ভোগ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। শুধু এবারের বোরো মৌসুম না। সদ্য শেষ হওয়া চৈতালী মৌসুমেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। গত চৈতালী মৌসুমের চেয়ে এবারে হালতি ও চলনবিল এলাকায় সরিষার উৎপাদন প্রায় দেড় হাজার হেক্টর কম হয়েছে।অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে চলনবিলের পানি নামতে না পারায় হালতি বিলের পানি নামতে দেরি হয়। ফলে সরিষার উৎপাদন কমে আসে।নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘চলনবিল জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে কয়েকশ পুকুর খননের কারণে চলনবিল তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। চলনবিল পূর্বের অবস্থায় ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।’নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম জানান, বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর হালতি ও চলনবিলের নিয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিবে। এরপর সরকারের বিভিন্ন দফতর প্রতিবেদন অনুযায়ী কাজ করবে বলে জানান তিনি।পুরো চলনবিলের মধ্যে প্রায় ২২ বর্গ কিলোমিটার সিংড়া উপজেলায় অবস্থিত।
Go to News Site