গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা, বললেন বিশেষজ্ঞরা
Somoy TV

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা, বললেন বিশেষজ্ঞরা

আজ ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। একাত্তরের এ কালরাতেই অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। মাত্র একরাতেই ঢাকা হয়ে উঠেছিল এক মৃত্যুপুরী। তবে ট্র্যাজেডির অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সেই বর্বরোচিত গণহত্যার মেলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি সভায় এ নিয়ে জোরালো প্রস্তাব উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজন আরও জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত। ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইয়াহিয়ার রক্তপিপাসু সেনাবাহিনী। কামানের গর্জন আর মেশিনগানের গুলিতে প্রকম্পিত হয় ঢাকা। ইতিহাসের এ ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের নাম দেয়া হয় 'অপারেশন সার্চলাইট'। হানাদারদের মূল টার্গেট ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানা। জহুরুল হক হল ও জগন্নাথ হলে ঢুকে নির্বিচারে হত্যা করা হয় ছাত্র-শিক্ষকদের। বিভিন্ন তথ্য বলছে, শুধু ওই রাতেই ঢাকায় ৭ হাজারসহ সারা দেশে থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। তবে ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ বর্বরোচিত গণহত্যার মেলেনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গবেষকরা বলছেন, গণহত্যা নিয়ে দেশি-বিদেশি রাজনীতির বিভাজন, সঠিক তথ্যের অভাব, আন্তরিকতার ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণহত্যার স্বীকৃতি পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক এ এস এম আলী আশরাফ বলেন, গবেষণা, পাবলিকেশনস ডকুমেন্টেশন  আছে। আমার মনে হয়, একটা গণহত্যা হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়টি নিয়ে মনোযোগী হয়ে থাকা, লেগে থাকার দরকার ছিল। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে স্বীকৃত আদায়ে প্রচেষ্টা চালানোর দরকার ছিল। সেখানে আমাদের ঘাটতি ছিল।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষকের পরামর্শ, গণহত্যার সঠিক তথ্য উদঘাটন করে স্বীকৃতি আদায়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো তৎপরতা চালানো। ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, মাঠপর্যায়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তথ্যভিত্তিক একটা ইতিহাস প্রচলন করা খুব জরুরি। দ্বিতীয়পর্যায়ে হলো কূটনীতিক পর্যায়ে যে উদ্যোগ, এটার মধ্যেও একটা সমন্বয় করা জরুরি।   এদিকে, বাংলাদেশে ৭১ এর গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে গত ২০ মার্চ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব তুলেছেন কংগ্রেস সদস্য ল্যান্ডসম্যান। যেখানে উঠে এসেছে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, প্রস্তাবটি পাসের সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন। ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, আমেরিকান কংগ্রেসম্যান তার এই পরামর্শটাকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে ২৫ মার্চে রাতে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায় করা, এটা আমাদের ইতিহাসের জন্য খুব জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক এ এস এম আলী আশরাফ বলেন, গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে ব্যাপক যদি প্রচারনা চালানো না হয় মার্কিন কংগ্রেসে, একজন ডেমোক্রেটের উত্থাপিত প্রস্তাবটি যদি ডেমোক্রেটদের সিনিয়র মেম্বাররা সাপোর্ট না করেন এবং তার সাথে রিপাবলিকান কিছু কংগ্রেসম্যানদের যদি সাপোর্ট যদি না আসে এই ধরনের প্রস্তাবে পরিপ্রেক্ষিতে, তাহলে এই ধরনের প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভবনা খবু একটা দেখছি না। কালরাতের বিভীষিকা মাড়িয়ে শুরু হয় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে যার সফল পরিণতি ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়। তবে অর্ধশতাব্দী পরেও সেই গণহত্যার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

Go to News Site