ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
Somoy TV

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সরকারের অনুরোধেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তবে তেহরান এ ধরনের কোনো অনুরোধের কথা অস্বীকার করেছে।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকারের অনুরোধে দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বিভিন্ন ভুয়া সংবাদমাধ্যমের ভুল খবর প্রকাশের পরও আলোচনা ভালোভাবে চলছে। এর আগে গত ২৩ মার্চ পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার কোনো অনুরোধ করেনি। ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে আছে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নিরুপায় ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের এবং নতুন পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ আছে। আমরা দেখব তারা তা করতে চায় কিনা। যদি না চায়, আমরা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন উপহার দেব। আমরা অবিরাম তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাব। তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। আরও পড়ুন: আইআরজিসির নৌপ্রধান তাংসিরিকে হত্যার দাবি ইসরাইলের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ নিশ্চিত করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং এতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। খুব দ্রুতই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উইটকফ। এদিকে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ইসরাইলজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। রাজধানী তেল আবিব থেকে শুরু করে কাফর কাশেম, হাইফা, গানেই তিকভাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেটের আঘাতে বেশকিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক যানবাহনে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক জাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের জ্বালানির ট্যাংকে হামলার দাবি করেছে ইরানের সেনা সদর দফতর। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন অবস্থানে হামলা চালিয়েছে তেহরান। আরও পড়ুন: মার্কিন প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক কী জবাব দিলো ইরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরাকের আনবার প্রদেশের হাব্বানিয়া সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় সেনাসদস্যসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। ইরানির ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে পশ্চিম তীরেও। অন্যদিকে ইরানের ইস্ফাহানের একটি অপটিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হামলা হয়েছে খার্ভ অঞ্চলেও। আইআরজিসির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির হত্যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

Go to News Site