Jagonews24
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিন হওয়ার বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুনকে জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদের আদালত পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। ওইদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ, আসামিপক্ষ ও আসামির নিজের দেওয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি। যেখানে রিমান্ড শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শেখ মামুন খালেদ। তিনি আদালতকে বলেন, এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের ব্যাপারে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি। মামলার অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি যদি সম্পৃক্ত থাকতাম, তাহলে বিদেশে থেকে যেতাম, দেশে ফিরতাম না। এদিন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে আয়নাঘর প্রসঙ্গে শেখ মামুন দাবি করেন, তার মেয়াদে এ ধরনের কোনো অভিযোগ ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে একাধিকবার শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, নজরুল সাহেব নামে একজনের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম। এছাড়া মামলার ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবনযাপন করছি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, এ আসামির (শেখ মামুনের) অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস সবার জানা। এক-এগারোর সময়কার কুশীলবদের একজন তিনি। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে অর্থ আদায়সহ নানান অনিয়মে জড়িত ছিলেন শেখ মামুন এবং পরবর্তীতে ডিজিএফআই প্রধান হওয়ার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরণ এবং নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুনানিতে ওমর ফারুক ফারুকী আরও বলেন, শেখ মামুনের নির্দেশেই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলেও যুক্তি দেন রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, মামলার এজাহারে তার (শেখ মামুনের) নাম নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, শেখ মামুন ওই সময় একজন চাকরিজীবী ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির কোনো প্রমাণ নেই। সহ-আইনজীবী নজরুল ইসলাম পাখি আদালতে বলেন, তিনি (আসামি) দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, কোনো অবৈধ সুবিধা নেননি। আলোচিত ঘটনাস্থলে শেখ মামুন উপস্থিত ছিলেন না এবং তাকে রিমান্ডে নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তদন্তের স্বার্থ বিবেচনায় তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। এমডিএএ/এমকেআর
Go to News Site