পদ্মায় বাসডুবি: অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় প্রাণহানি!
Somoy TV

পদ্মায় বাসডুবি: অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় প্রাণহানি!

একগুচ্ছ অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং নিয়মভঙ্গের নির্মম প্রতিচ্ছবি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটের বাস দুর্ঘটনা। ঘাটে প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও একটিও নিয়ম মানা হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত বিপর্যয় এবং অপমৃত্যুর দায় কাদের? গঠিত তদন্ত কমিটি কি সত্যিই প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে, নাকি আগের মতো মিলিয়ে দেবে কাগজের স্তূপে?গত ২৫ মার্চ বিকেলের শেষ আলোতে পদ্মার বুকে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় সৌহার্দ্য পরিবহনের অনেক যাত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছে। পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর চোখের পলকে ডুবে যায়, আর নদীর গভীরতায় হারিয়ে যায় চিৎকার, আর্তনাদ ও বাঁচার চেষ্টার শেষ আশা। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অনেক যাত্রী আটকা পড়েন বাসের ভেতরে, লোহার বদ্ধ কাঠামোর মধ্যে। উদ্ধার তৎপরতার একপর্যায়ে বের হতে থাকে হতভাগ্য যাত্রীদের নিথর দেহ। আরও পড়ুন: পদ্মায় বাসডুবি: নিহতদের পরিবারপ্রতি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ দুর্ঘটনায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে নিয়ম ভঙ্গের একাধিক চিত্র। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে তখনও যাত্রী ছিলেন, অথচ ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর প্রোটোকল অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রী নামানো বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, ফেরিতে ওঠার আগে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের নির্দেশনাও মানা হয় না। ঘাটেও ছিল না কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী, শক্ত গার্ড রেল বা জরুরি স্টপার। স্থানীয়রা বলছেন, গাড়ি নামার জায়গায় বড় গর্ত ও ইট-পাথরের উঁচু ঢিবির কারণে বাস সরাসরি পানিতে পড়ে যায়। ২০১৯ সালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের জন্য ১৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দের সাত বছর পরও প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি, যদিও এরই মধ্যে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাংলাদেশ নৌ আইন অনুযায়ী, লঞ্চঘাট বা ফেরিঘাটে একটি ফেরি আনলোড হওয়ার পরই যাত্রীবাহী যানবাহন ফেরিতে উঠতে পারে। কিন্তু এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সড়ক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বাসটি সেই পথ ধরে যাওয়ার পর সোজা নদীতে পড়ে যায়। যাত্রী ওঠানামার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে কোনো বিধি মানা হয়নি। আরও পড়ুন: পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইন ২০১৯ অনুযায়ী, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্ব। অথচ অ্যাপ্রোচ রোডের ত্রুটি, তদারকির অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই ঘটে এ দুর্ঘটনা। ঘাটকর্মীরা জানিয়েছেন, ফেরি কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলোকে সাইডে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু ছোট একটি ফেরি আসার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পানিতে পড়ে যায়; সম্ভবত ব্রেক ফেল করেছিল। দুর্ঘটনার পর সরকার দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই কমিটি কি সত্যিই দায় নির্ধারণ করবে, নাকি অন্য আগের অন্য দুর্ঘটনাগুলোর মতোই তদন্ত প্রতিবেদনও চাপা পড়ে যাবে? স্বজন হারানো দুর্গত পরিবারগুলোর একটাই আশা, দায়ীরা যেন আইনের আওতায় আসে।

Go to News Site