Jagonews24
রমজান মাসের রোজা প্রাপ্তবয়স্ক সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর ফরজ। তবে অসুস্থতা, সফর ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য শরঈ কারণ থাকলে রমজানে রোজা ভেঙে পরবর্তীতে কাজা করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। (সুরা বাকারা: ১৮৫) কেউ যদি সফর, অসুস্থতা ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য কোনো কারণে রমজানের রোজা রেখেও ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর ওই রোজার শুধু কাজা ওয়াজিব হয় অর্থাৎ ওই রোজাটির পরিবর্তে আরেকটি রোজা রাখতে হয়। আর রমজানের রোজা রেখে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া কেউ যদি ইচ্ছাকৃত পানাহার বা যৌনমিলন করে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হয়, কাফফারাও ওয়াজিব হয়। রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায়ের একটি পদ্ধতি হলো, ধারাবাহিকভাবে (মাঝে কোনো রোজা না ভেঙে) ৬০ দিন রোজা রাখা। ৬০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো রোজা ভেঙে ফেললে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এভাবে কাফফারা আদায়ের নিয়তে ৬০ দিন লাগাতার রোজা রাখতে পারলে রোজা ভঙ্গের কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। কাফফারার রোজা রাখার সময় নারীদের ঋতুস্রাব শুরু হলে তারা শুধু ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকবে, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে আবার রোজা রাখা শুরু করবে। ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে রোজা না রাখার কারণে ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হবে না। ঋতুস্রাবের আগে ও পরে মিলিয়ে ৬০টি রোজা রাখলে কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। কেউ যদি এভাবে ৬০ দিন রোজা রেখে কাফফারা আদায় করতে অক্ষম হয়, তার জন্য কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি হলো ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা পেটপুরে আহার করানো অথবা ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তির দুই বেলার খাবারের মূল্য দান করে দেওয়া। একজনের দুই বেলা খাবারের মূল্য হিসাব করতে হয় সদকায়ে ফিতরের পরিমাণ অনুযায়ী। যেমন এ বছর সদকায়ে ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ ছিল ১১০ টাকা। একজনের দুই বেলার খাবারের মূল্য ১১০ টাকা হলে ৬০ জনের দুই বেলার খাবারের মূল্য হয় ৬৬০০ টাকা। কেউ যদি কাফফারা আদায়ের নিয়তে সর্বনিম্ন ৬৬০০ টাকা দান করে দেয়, তাহলে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। রোজা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল, ইসলামের মূল পাঁচ স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত। কোনো অসুস্থতা, অসুবিধা বা অবহেলায় রোজা ছুটে গেলে যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ওই রোজার কাজা আদায় করা এবং কাফফারা ওয়াজিব হলে কাফফারা আদায় করা জরুরি। রমজানের পর প্রথম সুযোগেই রমজানের কাাজ রোজা আদায় করার চেষ্টা করা উচিত। যে কোনো ফজিতলতপূর্ণ নফল রোজার চেয়ে রমজানের কাজা রোজা আদায় করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওএফএফ
Go to News Site