Collector
যৌন মিলনে ক্রমাগত অস্বীকৃতি ‘নিষ্ঠুরতা’, হতে পারে বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ | Collector
যৌন মিলনে ক্রমাগত অস্বীকৃতি ‘নিষ্ঠুরতা’, হতে পারে বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ
Jagonews24

যৌন মিলনে ক্রমাগত অস্বীকৃতি ‘নিষ্ঠুরতা’, হতে পারে বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ

দাম্পত্য জীবনে স্বামী বা স্ত্রীর যে কোনো একজনের পক্ষ থেকে যৌন মিলনে ক্রমাগত অস্বীকৃতি জানানো এবং বৈবাহিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এক ধরনের ‘নিষ্ঠুরতা’। আর এই নিষ্ঠুরতাকে হিন্দু বিবাহ আইনের অধীনে বিয়ে বিচ্ছেদের বৈধ কারণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এক চিকিৎসক দম্পতির বিয়ে বিচ্ছেদের মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্বামী রাজস্থানে কর্মরত ছিলেন এবং স্ত্রী ছিলেন গুজরাটে কর্মরত। জানা যায়, স্থানীয় পারিবারিক আদালতের একটি রায়কে খারিজ করে রাজস্থান হাইকোর্ট স্বামীকে বিয়ে বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন স্ত্রী। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ স্ত্রীর সেই আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। আরও পড়ুন>>ফোনে স্ত্রীর নাম ‘মোটু’ লিখে সেভ করায় বিচ্ছেদ, স্বামীকে জরিমানারাতে সাপ হয়ে কামড়াতে যান স্ত্রী, প্রশাসনের কাছে স্বামীর অভিযোগপরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়ে স্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা আদালতে স্বামী অভিযোগ করেছিলেন, গত ১৫ বছর ধরে স্ত্রী গুজরাটে অবস্থান করে তাকে একা ফেলে রেখেছিলেন এবং বৈবাহিক সুখ থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। রাজস্থানের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি আরও জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা মাত্র কয়েক মাস একসঙ্গে কাটিয়েছেন এবং তাদের কোনো সন্তান নেই। অন্যদিকে, স্ত্রী আদালতে দাবি করেন, তিনি কখনোই স্বামীকে পরিত্যাগ করেননি। তিনি স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান এবং এর জন্য রাজস্থানেও স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তবে স্ত্রীর আপিল খারিজ করে বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ পর্যবেক্ষণে বলেন, একত্রে বসবাসের সংক্ষিপ্ত সময়েও স্ত্রীর আচরণে নিষ্ঠুরতার প্রমাণ মিলেছে। স্বামীর সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, একসঙ্গে থাকার সময়ও স্ত্রী রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তেন, ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতেন এবং ডাকলেও দরজা খুলতেন না। ফলে স্বামীকে বাধ্য হয়ে আলাদা ঘরে ঘুমাতে হতো। স্ত্রীও আলাদা ঘরে ঘুমানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তাই নিষ্ঠুরতার ভিত্তিতে বিয়ে বিচ্ছেদের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেন, দাম্পত্য সম্পর্কের মৌলিক বা ভিত্তিগত বিষয়গুলো থেকে ক্রমাগত নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এই মানসিকতা ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর আইনি পরিণতি (বিয়ে বিচ্ছেদ) ভোগ করতে হতে পারে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফকেএএ/

Go to News Site