Jagonews24
মাগুরায় শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের দণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামির আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক তথা যাবতীয় নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেস থেকে ছাপানো সেই পেপারবুক সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে। হাইকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ফৌজদারি-১) আব্বাস উদ্দিন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, ডেথ রেফারেন্সের শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মামলার বৃত্তান্ত দিয়ে ছাপা পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়। মাগুরার মামলার পেপারবুক এখন সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছানোয় সেখানে আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর বেঞ্চ নির্ধারণ ও শুনানি শুরু হবে। প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের এই বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন। মাগুরায় শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি তিন আসামি খালাস পান। আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি ওই বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। আরও পড়ুন দ্রুত বিচারের নজির গড়া আলোচিত যত মামলা ফৌজদারি কোনো মামলায় নিম্ন আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে, সেটি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। এজন্য বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দণ্ডিত আসামি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল ও আপিল করতে পারেন। এছাড়া আসামির বিবিধ আবেদনও করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়। এতে মামলার এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের বক্তব্য, বিচারিক আদালতের রায়সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে। মাগুরার আলোচিত ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে ১ জুলাই হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়। আসামি হিটু শেখের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘আসামির আপিলের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট অর্থদণ্ড স্থগিত করেছে। এরপর মামলার শুনানির আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা হাইকোর্টে এ মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির অপেক্ষায় আছি।’ সাধারণত বছর ও মামলার ক্রম অনুসারে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়ে থাকে। বর্তমানে উচ্চ আদালতে ২০১৮ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। অবশ্য গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতেও ডেথ রেফারেন্স শুনানির নজির রয়েছে। এফএইচ/একিউএফ
Go to News Site