Collector
বিয়ের আগে সম্পর্ককে ‘চরিত্রহীনতা’ বলা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট | Collector
বিয়ের আগে সম্পর্ককে ‘চরিত্রহীনতা’ বলা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
Jagonews24

বিয়ের আগে সম্পর্ককে ‘চরিত্রহীনতা’ বলা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, বিয়ের আগে সম্পর্ককে ‘চরিত্রহীনতা’ বলা যাবে না। সোমবার (৮ জুন) তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত মামলার রায়ে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। এটি ভারতজুড়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কর্মসংস্থানে নৈতিকতার ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সোমবার (৮ জুন) দেওয়া এই রায়ে বিচারপতি মনমানোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। ওই প্রার্থী ২০১৪ সালের একটি ফৌজদারি মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছিলেন, যেখানে অভিযোগ ছিল বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের। পরে ২০১৫ সালে মামলাটি লোক আদালতে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। প্রার্থী তার আবেদনপত্রে ওই মামলার তথ্যও প্রকাশ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে স্পষ্টভাবে জানান, একে অন্যের সম্মতিতে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ককে ‘এককভাবে কারও চরিত্রের খারাপ দিক’ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ভারতের আইনে এমন কোনো বিধান নেই যা দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে সম্মতিতে সম্পর্ক করতে বাধা দেয়।  আদালত বলেন, শুধু সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই সেটিকে প্রতারণা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিটি সম্পর্কই বিয়েতে শেষ নাও হতে পারে ও সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে লোক আদালতে আপস হওয়া মানেই কোনো অপরাধ স্বীকার করা নয়। ফলে কেবলমাত্র মামলার নিষ্পত্তির ভিত্তিতে নিয়োগকারী সংস্থা প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা নিতে পারে না, যদি না সেখানে জোরজবরদস্তি বা চাপ প্রয়োগের মতো নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে। রায়ে আদালত আরও বলেন, এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণ করা নির্ভর করে মূলত ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যের ওপর। আদালতের ভাষায়, অভিযোগকারিণী নিজেই বলতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন কি না, এবং বাহ্যিকভাবে অন্য কেউ তা নিশ্চিত করতে পারে না। যেহেতু মামলার পর অভিযোগকারিণী আর অভিযোগ চালিয়ে যাননি ও আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে সম্মত ছিলেন, তাই প্রার্থীর বিরুদ্ধে চরিত্রগত অনুপযুক্ততার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি ছিল না বলে আদালত জানান। এই মামলায় তেলেঙ্গানা স্টেট লেভেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড প্রথমে প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করে ‘নৈতিক অবক্ষয়’- এর অভিযোগ তোলে। হাইকোর্টের একক বেঞ্চ সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিলেও পরে বোর্ড আবার নিয়োগ বাতিল করে,কিন্তু পরে আরেকটি একক বেঞ্চ নিয়োগের পক্ষে রায় দেয়। তবে ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে আরও জানান, আধুনিক সমাজে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে ও সব সম্পর্ক বিয়েতে পৌঁছায় না। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচিত দুজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সম্মতির অনুমান স্বাভাবিকভাবে ধরা যেতে পারে বলেও আদালত মন্তব্য করেন। রায়ে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে বা অভিযোগ প্রমাণিত না হলে শুধুমাত্র সেই ভিত্তিতে তার চরিত্র বা যোগ্যতা নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। নিয়োগকারী সংস্থা কেবল তখনই ‘প্রতিকূল অনুমান’ নিতে পারে, যখন স্পষ্টভাবে অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ ও অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার পক্ষে রায় দেন ও জানান, মামলার বাস্তবতা ও প্রমাণের আলোকে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত টেকসই নয়। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ

Go to News Site