Collector
খসে পড়লো স্কুল ভবনের পলেস্তারা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা | Collector
খসে পড়লো স্কুল ভবনের পলেস্তারা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা
Jagonews24

খসে পড়লো স্কুল ভবনের পলেস্তারা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো শিক্ষার্থীরা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ খসে পড়লো ছাদের পলেস্তারা। অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেলো অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী। সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে ভৈরব শহরের কালিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। স্কুলের ৪০ বছরের পুরানো ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছে। এসময় হঠাৎ বিকট শব্দ। মুহূর্তেই ছাদের বিশাল অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে ক্লাস রুমে। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা দৌড়ে এসে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পৌর শহরের কালিপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে চারটি কক্ষ। এছাড়াও ২০০৮ সালে স্কুলের আরেক দুতলা একটি ভবন নির্মিত হয়। স্কুলের ৩০২ জন শিক্ষার্থীকে ৬ জন শিক্ষক পাঠদান প্রদান করেন। প্রায় ৪০ বছরের পুরানো ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনের প্রতিটি কক্ষেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই তিনটি ক্লাসে ১৫৯ জন শিক্ষার্থী ক্লাস গ্রহণ করছেন। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিনা বেগম বলে, সকালে ক্লাস রুমে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ করে ভবনের ছাদের পলেস্তারা ক্লাসের বেঞ্চের ওপর খুলে পড়েছে। এসময় আমরা দ্রুত ক্লাস থেকে বের হয়ে যাই। আল্লাহর রহমতে কোন শিক্ষার্থী হতাহত হয়নি। আমরা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী লামিয়া, মোহাম্মদ আলী,তামিম আহমেদ জানায়, ছাদ ধসের ঘটনার পর তারা খুব ভয় পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে তারা আর ক্লাস করতে চান না। দ্রুত ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা দাবি জানায়। শিক্ষার্থী অভিভাবক রায়হান মিয়া বলেন, অল্পের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাণ রক্ষা পেয়েছেন। এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা রানী নাহা বলেন, বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে তৃতীয় শ্রেণির অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী। এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছি। ঘটনার পরই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে অন্য ভবনে ক্লাস নেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুতই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভৈরব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ পুরানো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাটি প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে জেনেছি। এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজীবুল হাসান/এনএইচআর/জেআইএম

Go to News Site