Jagonews24
সাদা অ্যাপ্রন, স্টেথোস্কোপ আর রোগীর মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের (সিআইডিসি) ক্লাসরুমে পা রেখেছেন ৭০ জন তরুণ-তরুণী। সোমবার (৮ জুন) এই নবীন শিক্ষার্থীদের ‘স্বপ্নের যাত্রা’ শুরু হয়। বিডিএস ২২তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবিষ্যতের এই ৭০ জন দন্ত চিকিৎসকের যাত্রা শুরু হয়েছে। ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। ১৯ জন ছাত্র এবং ৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে ৪ জন ভর্তি হয়েছেন গরিব ও মেধা কোটায়। চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ওমর গনি জানান, ওরিয়েন্টেশন শেষে নবীনরা ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন। আগামী ৫ বছর পর এই ৭০ জন শিক্ষার্থীই হবেন বিডিএস ডাক্তার। তাদের কারও চেম্বার হবে শহরে, কেউ যাবেন গ্রামে। কেউ হবেন গবেষক, কেউ শিক্ষক। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আকরাম পারভেজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশনে নবীনদের জন্য ছিল অনুপ্রেরণামূলক নানা দিকনির্দেশনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেভেলপমেন্ট ফর এডুকেশন সোসাইটি অ্যান্ড হেলথের (ড্যাশ) ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও আইআইইউসির ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, তোমরা শুধু ডিগ্রি নিতে আসোনি। মানুষের ব্যথা বোঝার, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নিতে এসেছো। বিশেষ অতিথি ডা. একেএম ফজলুল হক ও অধ্যাপক নুরুন্নবী মনে করিয়ে দেন, দাঁতের চিকিৎসক মানেই শুধু দাঁত তোলা না। এটি একটি মানবিক পেশা। টেকনিক্যাল দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতা আর গুণগত শিক্ষার সমন্বয় না হলে বিশ্বমানের চিকিৎসক হওয়া যায় না। স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, আগামী ৫ বছর কঠোর পরিশ্রমের। কিন্তু এই পরিশ্রমের ফল হলো, একদিন তোমার হাতের স্পর্শে কেউ ব্যথামুক্ত হবে। ফিজিওলজি বিভাগের ডা. জোয়াইরিয়া রেজওয়ানা ও ডেন্টাল অ্যানাটমির ডা. ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় মঞ্চে উঠে আসে নবীনরাও। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্যে উঠে আসে ত্যাগের গল্প। গরিব কোটায় ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, টাকার অভাবে স্বপ্ন ভাঙতে দিইনি। আজ আমার ছেলের স্বপ্নের প্রথম দিন। ওরিয়েন্টেশনে শুধু ফুল আর বক্তৃতা ছিল না। একাডেমিক নিয়ম-কানুন, ল্যাব-ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম, প্রুফ পরীক্ষার চাপ, হাসপাতালের ডিউটি—সবকিছু সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয় নবীন শিক্ষার্থীদের। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আলী হোসাইন ও সিআইডিসিএইচ’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহিকুল জাব্বার জানিয়ে দেন, সামনের দিনগুলো সহজ হবে না। কিন্তু লক্ষ্য স্থির থাকলে অসম্ভব কিছুই না। এমআরএএইচ/এমএমকে
Go to News Site