Collector
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী | Collector
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Jagonews24

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই সংকট মোকাবিলাকে একটি ‘টোটাল ফাইট’ (সর্বাত্মক যুদ্ধ) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই লড়াইয়ে সম্পৃক্ত হতে হবে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ড. মিলন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক একটি জাতীয় ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ কার্যক্রমের প্রথম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের যৌথ সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপর জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের ওপর চাপ দিতে পারি, কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং যে কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হলে বিপুল বাজেটের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে আমাদের প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করা কঠিন উল্লেখ করে মন্ত্রী চিকিৎসকদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্লাজমা লিকেজ সময়মতো শনাক্ত করা। রোগীর অবস্থা কখন সংকটজনক পর্যায়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে। সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতৃত্বে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির এই বার্তা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিগত বছরগুলোর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। ২০২৩ সালে আক্রান্ত ৩,২১,১৭৯ জন। মৃত্যু হয় ১,৭০৫ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ১,০১,২১৪ জন। মৃত্যু ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত ১,০২,৮৬১ জন। মৃত্যু ৪১৩ জন। এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশে একটি সারা বছরব্যাপী জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে, অন্যথায় রোগী দ্রুত শকে চলে গিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আজকের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি কাঠামোবদ্ধ তিন মাসব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশ, যা ২০২৬ সালে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের একটি টেকসই পদক্ষেপ। আয়োজকরা জানান, পরবর্তী ব্যাচগুলোতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং কর্পোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের কনভেনর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ. এম. সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে সমন্বয় করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হালিমুর রশিদ এবং এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এসইউজে/এমআইএইচএস/

Go to News Site