Collector
রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা | Collector
রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা
Somoy TV

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও ভাতা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন শিক্ষানবিস চিকিৎসকেরা।সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি ও মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই টানা কর্মবিরতি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ভাষ্য, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ করা, উপজেলা পর্যায়ে দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী।চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবি- এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করা, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।এদিকে সরেজমিনে রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন রোগী ভর্তি, নিয়মিত রাউন্ড (পর্যবেক্ষণ), রোগীর ছাড়পত্র ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলোতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা পেতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।আরও পড়ুন: রাজশাহীতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিহাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'ইন্টার্ন ডাক্তাররা না থাকায় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সিনিয়র ডাক্তাররা থাকলেও তাঁদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।'ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে তৈরি হওয়া সংকটের কথা স্বীকার করেছেন রামেক কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস সময় সংবাদকে বলেন, 'ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের ওপর কিছুটা অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিড-লেভেল (মধ্যম সারির) চিকিৎসকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'

Go to News Site