Collector
কেন এখন উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং? | Collector
কেন এখন উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং?
Jagonews24

কেন এখন উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং?

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সোমবার (৭ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শি নিজে পিয়ংইয়ং সফরে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেইজিংয়ে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, শি নিজেই এবার সফরে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের পর থেকে শি জিনপিং আর পিয়ংইয়ং সফর করেননি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বিদেশ সফরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের অনেক নেতা, যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভ্লাদিমির পুতিন তার সঙ্গে দেখা করতে বেইজিংয়েই যান। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই শি জিনপিংয়ের এই সফরের অন্যতম কারণ হতে পারে। রাশিয়ার বাড়তি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে চীন ছিল প্রধান অংশীদার। উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সেনা সহায়তা দিয়েছে, যা মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে সেনা মোতায়েন এবং অস্ত্র রপ্তানির বিনিময়ে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ বা সমমূল্যের সুবিধা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার প্রভাব কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন। ফলে শি জিনপিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে চীন আবারও পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিজের প্রভাব জোরদার করতে চাইতে পারে। অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় চীন উত্তর কোরিয়াকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে পিয়ংইয়ংকে নিজেদের কৌশলগত পরিসরে ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে বেইজিং। উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়াকে বেইজিং পুরোপুরি ইতিবাচকভাবে দেখে না। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া যদি আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জন করে, তাহলে তা কোরীয় উপদ্বীপের বিদ্যমান ক্ষমতার ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। চলতি বছরের শুরু থেকে উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে আটবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। মে মাসে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও উন্মোচন করেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিম জং উনের একটি ‘অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপাদান’ উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বিবেচনায় শি জিনপিংয়ের সফরের পেছনে পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা চীনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চীন ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক বিরোধ এবং টোকিওর সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। ফলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার মাধ্যমে চীন আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম

Go to News Site