Jagonews24
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ ইনের শিকার ১১ বাংলাদেশির ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তায়। প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুশ ইন প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। পুশ ইনের শিকারদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। এর মধ্যে একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং একজন শিশু প্রতিবন্ধী। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল সে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘুরিয়ে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়। এখন দ্রুত বাড়ি ফেরার আকুতি তার। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের জমির আইলে বসে থাকা এসব মানুষের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। মানবিক কারণে স্থানীয় গ্রামবাসী কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থি। ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশ ইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যদি তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণসহ হস্তান্তর করা হয়, তাহলে আমরা গ্রহণ করব। অন্যথায় কোনোভাবেই তাদের গ্রহণ করা হবে না। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে সমাধান না হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তানভীর হাসান তানু/এফএ/এএসএম
Go to News Site