Collector
বেঙ্গালুরুতে নিতে চান কাকলীকে, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রাণ রায় | Collector
বেঙ্গালুরুতে নিতে চান কাকলীকে, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রাণ রায়
Jagonews24

বেঙ্গালুরুতে নিতে চান কাকলীকে, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রাণ রায়

স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলীর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তার স্বামী, অভিনেতা প্রাণ রায়। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাণ রায় জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চললেও কাকলীর শারীরিক অবস্থায় আশানুরূপ পরিবর্তন আসেনি। এ কারণে দ্রুত তাকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা। প্রাণ রায় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছে, কিন্তু কাকলীর উন্নতি খুব একটা হচ্ছে না। তাই খুব শিগগির তাকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি জানিয়েছিলেন, স্ট্রোকের কারণে কাকলী স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে জানান তিনি। প্রাণ রায়ের ভাষ্য, ‘এখনো তিনি হাঁটতে পারছেন না। বাম হাতও নড়াচড়া করতে পারছেন না। মূলত শরীরের বাম পাশ এখনো প্যারালাইজড অবস্থায় রয়েছে।‘ তবে নিয়মিত থেরাপির ফলে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজধানীর মিরপুরে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-তে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও থেরাপি নিচ্ছেন কাকলী। প্রাণ রায় বলেন, ‘আগে শুধু শুয়ে থাকতে হতো, বসতেও পারতেন না। এখন কিছু সময় বসে থাকতে পারেন। তবে কোনো ধরনের সাপোর্ট ছাড়া হাঁটতে পারেন না। খাওয়াদাওয়াও স্বাভাবিকভাবে করতে পারছেন না। দিন দিন শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে।’ এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুর মনিপাল হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে এবং মেডিকেল ভিসাও পেয়েছেন বলে জানান প্রাণ রায়। আরও পড়ুন:ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ইলিয়াস কাঞ্চন এখন কেমন আছেন শ্বশুরবাড়ির গল্প শোনালেন বুবলী, জানালেন গোপন বিয়ের কথাও  তিনি বলেন, ‘এই মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালের সঙ্গে কথা হয়েছে, ভিসাও হাতে পেয়েছি।’ তবে চিকিৎসার এই যাত্রার আগে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের ব্যবস্থা। বিদেশে চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে বড় অংকের অর্থ প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। প্রাণ রায় বলেন, ‘সেখানে কী ধরনের চিকিৎসা হবে, কতদিন থাকতে হবে কিংবা কত খরচ হবে-এখনো কিছুই জানি না। তাই পর্যাপ্ত অর্থ নিয়েই যেতে হবে। এতদিন বিভিন্নভাবে চিকিৎসার খরচ সামলেছি, কিন্তু এখন বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন।’ তিনি আরও জানান, অভিনয় শিল্পী সংঘ থেকে কিছু সহায়তা পেলেও নির্মাতাদের সংগঠন থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা পাননি। তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রাণ রায়ের ভাষায়, ‘অনেকের সহযোগিতায় এতদূর আসতে পেরেছি। কিন্তু সামনে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, তা কীভাবে জোগাড় করব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।’ প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শাহনেওয়াজ কাকলী। চলচ্চিত্রটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি চারটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। পরে তিনি ‘ফ্রম বাংলাদেশ’সহ আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। বর্তমানে তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ফ্রম বাংলাদেশ’র কিছু কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এমএমএফ

Go to News Site