Jagonews24
বাংলাদেশে ফুটবল প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এসব নিশ্চিত করা গেলে একদিন বাংলাদেশও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান গোলরক্ষক কোচ আশরাফুল ইসলাম রানা। জাগোনিউজের সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে জাতীয় ফুটবলের মান আরও উন্নত হবে। রানা বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিরা ফুটবলের উন্নয়নে এগিয়ে এলে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।’ গ্রামাঞ্চলের ক্রীড়া অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক খেলার মাঠ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। মাঠ সংরক্ষণ, ক্লাবগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সচেতন মানুষদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।’ নিজের ফুটবল জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই তারকা গোলরক্ষক বলেন, ‘আমি যে গ্রামে বড় হয়েছি, সেখানে খেলার উপযোগী কোনো মাঠ ছিল না। মানিকগঞ্জে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় আমাকে খেলাধুলার জন্য ঢাকায় যেতে হয়েছিল। আমি চাই, আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা যেন নিজ জেলা থেকেই ভালো মানের ফুটবলার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রতিটি জেলায় উন্নত মানের মাঠ ও কার্যকর ক্লাব ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ সাবেক এই তারকা খেলোয়ারের সাথে আগামী বিশ্বকাপ নিয়েও কথা হয় জাগো নিউজের তিনি বলেন, বিশ্বকাপ নিয়ে সারা পৃথিবীর মতো এই দেশের মানুষের মাঝেও একটা উৎসব-উন্মাদনা কাজ করছে । খেলোয়াড় হয়েও আমার মধ্যও একটা উন্মাদনা কাজ করে। আমি বরাবরই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। আমার মনে হয় এর পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এসব দলগুলো ভালো খেলবে। তবে দিনশেষে ফুটবল দল হিসেবে মাঠের যারা ভালো খেলবে ফলাফলটা তাদের পক্ষে যায়। আশা রাখি এবার ভালো একটি বিশ্বকাপ দেখবো। উল্লেখ্য,আশরাফুল ইসলাম রানা, পেশাদার একজন ফুটবল খেলোয়াড় হতে সেচ্ছায় সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নামে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথমে ২০১৪ সালে ঢাকা মোহামেডান ক্লাবের হয়ে খেলা শুরু করেন। এরপর ২০১৫ সালে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। তিনি জাতীয় ফুটবল দলের খ্যাতিমান গোলরক্ষক হিসেবে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এই তারকা খেলোয়াড়। তিনি বর্তমানে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের প্রথমসারির ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন।’ আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাবেক এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপকে ঘিরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও সম্ভাব্য শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন।’ বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে পেশাদার ফুটবলে যোগ দেন। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন এবং অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমএসজেএএল/আইএইচএস/
Go to News Site