Somoy TV
ওয়ানডে ক্রিকেটে সময়টা তেমন ভালো কাটছে না অস্ট্রেলিয়ার। ঘরের মাঠে পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর সর্বশেষ পাকিস্তান সফরেও হেরেছে জশ ইংলিসের দল। এবার অজিদের সামনে টাইগারদের পরীক্ষা। নিজেদের ডেরায় টাইগারদের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালো জানাশোনা থাকলেও রোমাঞ্চকর সিরিজের আশায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।আগামীকাল (৯ জুন) হোম অব ক্রিকেটে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। চলতি সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া জশ ইংলিস প্রথম ম্যাচের আগের দিন ট্রফি উন্মোচনের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন। দলের ভারসাম্য বা কম্বিনেশন সম্পর্কেও তিনি দলের অবস্থান জানান। দীর্ঘ ১৫ বছর পর টাইগারদের সাথে ওয়ানডে সিরিজ খেলা নিয়েও নিজের মনোভাবের কথা জানান তিনি।ইংলিস বলেন, ‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি খেলি না। বিশেষ করে এখানে, বাংলাদেশে তো একেবারেই না। এখানে আমার এটা প্রথম সফর। আমি জানি দলের আরও অনেকেরই এটি প্রথমবার। সিরিজটি নিয়ে আমরা দারুণ রোমাঞ্চিত। আমরা এখনও দল ঘোষণা করিনি। তাই আজ আমরা উইকেট দেখব এবং আগামীকাল আপনারা সেটি (দল) দেখতে পাবেন।’৫০ ওভারের ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। কিন্তু বর্তমান অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত অনেক খেলোয়াড়ই এই সিরিজে বিশ্রামে এবং সিরিজের ঠিক আগে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শসহ বেশ কয়েকজন। বাংলাদেশকে হারানো অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হলো কিনা- তার জবাবে টাইগারদের সামর্থ্যের প্রশংসাই করেন ইংলিস। ইংলিস বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তারা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। স্বাভাবিকভাবেই আপনারা নিজেদের ঘরের মাঠের কন্ডিশনে খেলছেন। আমাদের অনেকেই আগে এখানে আসেনি, তবে আমাদের যেটা আছে তা হলো নিজেদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। আমার মনে হয় এটি একটি দারুণ সিরিজ হতে যাচ্ছে।’ আরও পড়ুন: মোসাদ্দেককে সঠিক সময়ে নেওয়া হয়েছে: মিরাজসদ্য আইপিএল চার ম্যাচ খেলা ইংলিস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উইকেটের সাদৃশ্য আছে বলে মনে করেন না। এছাড়া টি-২০ ফরম্যাটের সাথে ওয়ানডের তুলনাটা তার কাছে প্রাসঙ্গিক নয়।অজি অধিনায়কের মতে, ‘আমরা আজ উইকেটটি দেখব। এটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের, কারণ ওটা ছিল টি-২০ ক্রিকেট (ভারতের উইকেট)। আমরা আমাদের হোমওয়ার্ক করব। সম্প্রতি এখানে যে ম্যাচগুলো খেলা হয়েছে সেগুলো দেখে তারপর আজ উইকেট সম্পর্কে একটি ধারণা বা সিদ্ধান্ত নেব।’ট্রাভিস হেড এবং মিচেল মার্শকে ইনজুরির কারণে এই সিরিজে দলে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। দুজন তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিলেও বাকিদের জন্য এটাকে সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।তিনি বলেন, ‘তারা এখানে নেই, (বাস্তবতা) পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের সদ্য সমাপ্ত সিরিজের মতোই। আমি মনে করি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় এই ধরনের কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। স্বভাবতই সামনে একটি বিশ্বকাপও রয়েছে। তাই এর আগে ভিন্ন কম্বিনেশন এবং কয়েকজন ভিন্ন খেলোয়াড়কে দেখে নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।’অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিশ্বমানের পেসার তৈরি করলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলটি এই মুহূর্তে একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন সিরিজে অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের পেসাররা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নে অবশ্য সফরকারী দলের কাপ্তান থাকলেন ইতিবাচক। নিজ দলের পেসারদের উপর রাখলেন আস্থা।ইংলিস বলেন, ‘সিরিজটি খেলার পরেই আমরা তা জানতে পারব বলে আমার ধারণা। অবশ্যই আমাদের স্কোয়াড থেকে বড় কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে আছে। তবে যারা গত কয়েক বছর ধরে প্রচুর খেলছে যেমন, নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট, বেন ডোয়ারশুইস- এই স্তরে তাদের এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারাও দারুণ রোমাঞ্চকর এবং এই সিরিজে তারা কী করতে পারে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’পাকিস্তান সফরের ব্যাটিংয়ের কোন শিক্ষাগুলো আপনারা বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তরে ইংলিস বলেন, ‘আমরা যে শিক্ষাগুলো পেয়েছি তা হলো কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়া। আমার মনে হয় বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন কন্ডিশন পাবো। তবে মূল বিষয় হলো নিজের গেম প্ল্যান বা পরিকল্পনা নিয়ে একদম পরিষ্কার থাকা। আপনি কীভাবে খেলতে চান তা জানা এবং তারপর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি বজায় রাখা। যারা সফল হয়েছে তারা এটি বেশ ভালোভাবেই করেছে, তবে আমরা আরও দীর্ঘ সময় ধরে এটি করতে চাই এবং বড় স্কোর গড়তে চাই।’পেস-বান্ধব উইকেট আশা করছেন কিনা- জানতে চাইলে তার সাফ জবাব, ‘এখানে নিউজিল্যান্ডের যে সিরিজটি হয়েছিল তা আমরা দেখেছি, তাই না? সেখানে উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল বলে মনে হয়েছিল। নতুন বল কিছুটা মুভ করছিল এবং উইকেটটি স্পিন-নির্ভর হওয়ার চেয়ে সিম-বান্ধব বেশি ছিল। আমরা বিষয়টি মাথায় রাখব, তবে আমরা যেকোনো কিছুর জন্যই প্রস্তুত। গতকাল আমি সংক্ষেপে একটু (উইকেট) দেখেছিলাম। তবে খুঁটিয়ে দেখা হয়নি, তাই আজ আবার দেখব।’পেসার নাথান এলিসের বৈচিত্র্যময় বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য হতে পারে চ্যালেঞ্জিং। সিরিজে তার অজিদের জন্য এক্স-ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার সম্ভাবনার পালে ইংলিস হাওয়া লাগালেন।‘আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে সে দারুণভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে এবং আমরা তাকে যে ভূমিকাই দিয়েছি, সে তা লুফে নিয়েছে। অবশ্যই তার ঝুলিতে সব ধরনের বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে সে অত্যন্ত দক্ষ এবং খেলার তিনটি ফেজেই (শুরুতে, মাঝে ও শেষে) বল করতে পারে। আমি আশা করি এই সিরিজে সে বড় ভূমিকা পালন করবে।’বিশ্ব ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। অন্যান্য খেলাধুলা নিয়ে সবারই আকর্ষণটা তাই কম থাকবে। তবে ইংলিসের বিশ্বাস, রোমাঞ্চকর সিরিজই মাঠে গড়াবে।‘আমার মনে হয় এটি খুবই রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে। আগে যেমনটা বললাম, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশ খুব বেশি মুখোমুখি হয় না। আমি জানি আমাদের ছেলেরা দারুণ উত্তেজিত এবং এই কন্ডিশনে মাঠে নেমে খেলার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’আরও পড়ুন: আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করে টেস্ট ইতিহাসে ভারতের বৃহত্তম জয়অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেয়া ও ভবিষ্যতে নিজেকে ওয়ানডে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক হিসেবে দেখার বিষয়টি অজি অধিনায়ক উড়িয়ে দেন।‘আমি ঠিক তেমনটা বলব না। সত্যি বলতে, আমি এত দূরের কথা ভাবিনি। অবশ্যই (নিয়মিত) কয়েকজন খেলোয়াড় অনুপস্থিত এবং যখনই প্রয়োজন হবে আমি দায়িত্ব পালন করবো। তবে গত কয়েকটি সিরিজে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। এটি আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু। আমাদের দলটি তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ এবং এটি বেশ মজার। এই ছেলেদের জন্য ভিন্ন কন্ডিশনে এসে খেলাটা অনেক আনন্দের। আমি শুধু এই পুরো অভিজ্ঞতাটা লুফে নেয়ার এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি।’
Go to News Site