Somoy TV
মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে নির্মিত পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর দ্বিতল সড়ক আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বিতল সড়কের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে চলছে পিচঢালাইয়ের শেষ স্তর (টপ লেয়ার), এক্সপানসন জয়েন্ট এবং সড়ক চিহ্নিতকরণের (রোড মার্কিং) প্রস্তুতি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৬ দশমিক ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ দ্বিতল সড়ক চালু হলে দুই জেলার মধ্যে যান চলাচল আরও সহজ ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মেগা অবকাঠামো।প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দ্বিতল সড়কটির উপরিভাগ ৩৬ ফুট প্রশস্ত এবং দুই লেনবিশিষ্ট। সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রতি ৯০ মিটার পরপর এক্সপানসন জয়েন্ট স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে শেষ ধাপের কাজ হিসেবে টপ লেয়ার বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি চলছে। এরপর রোড মার্কিং সম্পন্ন করা হবে।সড়কটি চালু হওয়ার পর দ্বিতীয় তলা বা উপরতলা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে নির্দিষ্ট হারে টোল দিতে হবে। তবে নিচতলার ৫৪ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়কটি আগের মতোই টোলমুক্ত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।দ্বিতল সড়ক চালুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও পুরো প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো স্থানান্তর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মুক্তারপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দেড় কিলোমিটার অংশের ঢালাই কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই নির্মাণকাজের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি, খোঁড়াখুঁড়ি এবং আংশিক নির্মাণকাজের কারণে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।আরও পড়ুন: সড়কে এআই মামলার ভয়ে অসুদাপায় অবলম্বন করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপিস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলমান এ প্রকল্পের কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করে পুরো সড়ক জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।জানতে চাইলে প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, 'পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর দ্বিতল সড়ক জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে চালু করার লক্ষ্য নিয়ে দিনরাত কাজ চলছে। অন্যদিকে মুক্তারপুর-পঞ্চবটি অংশের অবশিষ্ট কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।'সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার এই মেগা প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। একই সঙ্গে এই শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
Go to News Site