Jagonews24
১৬ বছর পর, ১৭ বছরের মাথায় এসে শিরোপার বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মোহামেডান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি জিততে সাদা-কালোদের আর মাত্র দুটি জয় দরকার ছিল। লিগের ১১ নম্বর ও শেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর মুখোমুখি হওয়ার আগে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে জয়টাও খুব দরকার ছিল মোহামেডানের। কিন্তু আজ ৮ জুন বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সেই দশম ম্যাচে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে ৫ উইকেটে হেরে সমীকরণ অনেক কঠিন হয়ে পড়ল মোহামেডানের। এখন মোহামেডানের চ্যাম্পিয়ন হওয়া না হওয়া অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করবে। যে ব্যাটাররা পুরো লিগে মোহামেডানকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই এনামুল হক বিজয় (১), নাইম শেখ (১৩), পারভেজ ইমন (২২), আনিসুল ইসলাম ইমন (২), তাইবুর রহমান পারভেজরা (২৩) ঢাকা লেপার্ডসের মাঝারি মানের বোলিং শক্তির বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়েছেন। ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝে একা চেষ্টা করেছেন মুশফিকুর রহিম। এ অভিজ্ঞ ব্যাটার ৮০ বলে ৬৮ রানের এক ইনিংস খেলে শুরুর বিপর্যয় কাটান। সঙ্গে আফিফ হোসেন ধ্রুব (৫৩ বলে ৩৯) আর অলরাউন্ডার সাইফউদ্দীন (২৫ বলে ৩৩) মিলিয়ে ৫০ ওভার শেষে ২২৫ পর্যন্ত যায় মোহামেডান। লেপার্ডসের শেখ পারভেজ জীবন দারুণ বোলিং করেন। ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট দখল করেন এ অফস্পিনার। ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মোহামেডান যে দুজনের ব্যাটে ভর করে এগোনোর চেষ্টায় ছিল, সেই মুশফিক আর আফিফ এবং ঠিক তাদের পেছনে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেওয়া সাইফউদ্দীনকে আউট করে মোহামেডানের ইনিংসকে সোয়া দুইশ’তে আটকে রাখেন জীবন। ঢাকা লেপার্ডসের তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার শুরুতেই মোহামেডানের ফ্রন্টলাইন বোলারদের ওপর ভয়ংকরভাবে চড়াও হলে মোহামেডান প্রথম ১০ ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। জাওয়াদ আবরার ৩৪ বলে ৬ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারিতে ৬৬ রানের হারিকেন ইনিংস খেলে মোহামেডানের বোলিং ও ফিল্ডিং এলোমেলো করে দেন। আর সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। এরপর অভিজ্ঞ মুমিনুল হকের অনমনীয় দৃঢ়তায় মোহামেডানের শেষ আশাও ভঙ্গ হয়। তিন নম্বরে নেমে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ও সেরা ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি উপহার দিয়ে মোহামেডানের সর্বনাশ ডেকে আনেন শুধু ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ তকমা গায়ে এঁটে যাওয়া মুমিনুল। ৭৭ বলে ৪ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারিতে ৯৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে মুমিনুল যখন মোহামেডানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে হাসিমুখে বিজয়ীর বেশে সাজঘরের পথে, তখনও দিনের ৯৩ বল বাকি ছিল। এই জয়ে ঢাকা লেপার্ডসের আনন্দে মেতে ওঠা ছাড়া আর অবস্থানের কোনো হেরফের হয়নি। তবে মোহামেডানের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আজকের ম্যাচে পূর্ণ পয়েন্ট পেলে আবাহনীর সঙ্গে জিতলেই চলত। এখন আর সেই সাজানো-গোছানো অবস্থা নেই। অনেক কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে গেল মোহামেডান। এআরবি/আইএইচএস
Go to News Site