Collector
Giriş Yap
গ্রেড ও পেনশনে বড় চমক: জুনেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট? | Collector
গ্রেড ও পেনশনে বড় চমক: জুনেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট?

গ্রেড ও পেনশনে বড় চমক: জুনেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে সরকার।সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে, বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন এই বেতন কাঠামোর ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশ হতে পারে।এবারের পে-স্কেলে কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং গ্রেড বিন্যাস এবং পেনশন কাঠামোতেও আনা হচ্ছে যুগান্তকারী সব পরিবর্তন; যা দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই বিশাল আর্থিক কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুন: বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবরতবে পে-স্কেল কমিশনের সব কটি সুপারিশ যদি একযোগে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে সরকারের কোষাগার থেকে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আদায়ের গতি-প্রকৃতি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনা করে সরকার একটি ভিন্ন কৌশল হাতে নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বা ফেইজ-আউট পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় রেখেই এই পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: বাজেট ২০২৬-২৭: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারেপ্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে বর্তমানের ২০টি বেতন গ্রেডই বহাল রাখা হচ্ছে, তবে ভেতরের অঙ্কে আসছে বিশাল লাফ। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বিবেচনায় রয়েছে।নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে মানবিক ও চমকপ্রদ দিক হলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকে। বিশেষ করে অতীতে যারা অবসরে গিয়ে বর্তমানে নামমাত্র পেনশন পাচ্ছেন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। প্রস্তাবনায় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য হবে এক বড় উপহার।সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অবশ্য সব মহলে স্বস্তি আনেনি। শতভাগ বেতন বৃদ্ধি এক ধাপেই বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ালে প্রকৃত সুবিধা মিলবে না।

Go to News Site