Somoy TV
উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার প্রবেশদ্বার ও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত। নাব্যতা সংকট, পর্যাপ্ত জেটির অভাব এবং পণ্য ওঠানো-নামানোয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতির কারণে বন্দরটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।নাব্য সংকটের কারণে পণ্যবাহী বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে মাঝনদীতে বড় জাহাজ থেকে ছোট লাইটারেজ (হালকা) জাহাজে পণ্য খালাস করে বন্দরে আনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদারেরা যেমন বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছেন, তেমনি বন্দরে কর্মরত হাজারো শ্রমিকের কাজ কমে গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর থেকে প্রতিদিন সার, কয়লা, সিমেন্ট, জ্বালানি তেল, চাল ও গমসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বড় বড় জাহাজ এই বন্দরে আসে। কিন্তু যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় বড় জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না।স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, 'নাব্যতা সংকটের কারণে আমাদের বড় জাহাজগুলো সরাসরি ঘাটে ভিড়তে পারছে না। দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সেগুলো আটকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ছোট লাইটারেজ জাহাজে করে পণ্য বন্দরে আনতে হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।'বন্দরের ইজারাদার আনিছুর রহমান বলেন, 'এখানে কেবল নাব্যতা সংকটই একমাত্র সমস্যা নয়। পর্যাপ্ত জেটি ও মালামাল নিরাপদে রাখার জন্য শেড নেই। পণ্য লোড-আনলোডের জন্য নেই কোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এসব কারণে দিন দিন এই বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে আসছে। আর কাজ কমে যাওয়ায় বন্দরের হাজার হাজার শ্রমিক এখন বেকার সময় পার করছেন।' তিনি দ্রুত নৌ-চ্যানেল খনন (ড্রেজিং) ও বন্দরটি আধুনিকায়নের জোর দাবি জানান।আরও পড়ুন: এনবিআরের গড়িমসিতেই থমকে আছে সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর!এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার মাহাবুব আলম তায়েব বলেন, 'বন্দরটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এটিকে ২য় শ্রেণী থেকে ১ম শ্রেণীতে উন্নতিকরণসহ সামগ্রিক আধুনিকায়নের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এম এ মুহিত বলেন, 'বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বন্দরটিকে আরও উন্নত ও আধুনিক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুতই ড্রেজিং ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।'১৬ জেলার সার ও জ্বালানি তেলের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরটিকে দ্রুত সচল ও আধুনিকায়ন করার দাবি স্থানীয়দের।
Go to News Site