Jagonews24
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের হুলু লাংগাটের সুংগাই তেকালি এলাকায় অবৈধভাবে বিদেশিদের নির্মিত একটি চারতলা ভবনের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (এসপিআরএম) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। জানা গেছে, ভবনটি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের একটি অবৈধ বসতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর অস্তিত্ব এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কার্যক্রম জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়ান করাপশন ওয়াচের (এমসিডব্লিউ) সভাপতি জাইস আবদুল করিম বলেছেন, এ ঘটনায় শুধু অবৈধ স্থাপনা নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইন প্রয়োগ, ভবনের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ভবনটি সত্যিই কোনো অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনা, উন্নয়ন অনুমতি কিংবা বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছাড়া নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে এত বড় একটি স্থাপনা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে পরিচালিত হলো? জাইস বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ওই স্থাপনায় অভিযান চালানো হয় এবং বহু বিদেশিকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিষয়টির এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি এবং সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান। তিনি আরও বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ (পিডিআরএম) এবং ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগকে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি অতীতে পরিচালিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের ওপর একটি সমন্বিত সততা ও জবাবদিহি নিরীক্ষা করা উচিত। এমসিডব্লিউ’র পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনকেও তদন্তে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ভবনটি পরিচালনার পেছনে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অবৈধ সুরক্ষা বা প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জাইস বলেন, ভবনটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট তথ্য জানাতে হবে। এতে গুজব, জল্পনা-কল্পনা এবং জাতিগত উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা কমবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়া একটি আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র এবং প্রত্যেকের জন্য একই আইন প্রযোজ্য। এ ধরনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কঠোর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ না থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইএ
Go to News Site