Collector
উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী, নতুন চাপ এল নিনোর— ঝুঁকিতে বাংলাদেশ | Collector
উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী, নতুন চাপ এল নিনোর— ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
Somoy TV

উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী, নতুন চাপ এল নিনোর— ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

রেকর্ড ভাঙা তাপদাহের মধ্যেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীর ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে এল নিনো। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর, আর সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।খরতাপে পুড়ছে বাংলাদেশ। গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। বর্ষায় নেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি, শীতকালও যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে মানুষের জীবনযাত্রায়। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও বলছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা যখন রেকর্ড উচ্চতায়, ঠিক তখনই নতুন করে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয় এবং ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এর প্রভাবে বাতাসের প্রবাহ ও প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন আসে। আরও পড়ুন: ঢাকা শহরের একেক এলাকায় একেক তাপমাত্রা, পার্থক্য ৫ ডিগ্রিরও বেশি! এদিকে, বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এল নিনোর অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে কৃষি, পানি ও জনস্বাস্থ্য খাতে। পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ফলে সমাজ, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা বোঝা জরুরি। এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে জানা গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে, তবে সেই জানার ক্ষেত্রে এখনো যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে বিপদ সংকেত প্রচারের পাশাপাশি জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লেলিন চৌধুরি। তিনি বলেন, তাপমাত্রা যখন অনেক বেড়ে যায় বা কমে যায়, তখন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উচিত আগাম সতর্কতা জারি করা এবং এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয় সে বিষয়ে প্রস্তুতি রাখা। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, আবহাওয়ার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন না করা হলে কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. কাশফিয়া আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের কাছে আগাম আবহাওয়ার বার্তা ও তাপ সহনশীল উন্নত জাতের তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। এটি না করা গেলে কৃষিতে বড় ধস নামতে পারে, যা অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ তৈরি করবে। বিশ্বজুড়ে যেখানে তাপপ্রবাহকে নীরব ঘাতক হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এখনো এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নেই পর্যাপ্ত সমন্বিত নীতিমালা। উন্নত বিশ্বে তীব্র তাপদাহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাংলাদেশে তা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনার মতোই থেকে যাচ্ছে, যেখানে আগাম সতর্কতা ও কার্যকর প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে বর্তমান সরকার কী ভূমিকা নেয়।

Go to News Site