Collector
নীতি-কৌশলে ভারত-ভিয়েতনাম থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাজেটে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব | Collector
নীতি-কৌশলে ভারত-ভিয়েতনাম থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাজেটে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব
Somoy TV

নীতি-কৌশলে ভারত-ভিয়েতনাম থেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাজেটে প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব

রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ পিছিয়ে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এ পরিস্থিতির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক মন্দাকে দায়ী করছেন উদ্যোক্তারা। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে আগামী বাজেটে প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্ক পরিশোধে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ।২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। এতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ওপর। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব বলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি কমে গেছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি কমলে বাংলাদেশের পোশাকের অর্ডারও কমে যায়। এই পরিস্থিতির কারণে রফতানি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাকের দাম নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাজারে মন্দাভাবের কারণে চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ক্রয়াদেশ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিজিএমইএ নেতারা আশা করছেন, পরবর্তী তিন মাসে ক্রয়াদেশ আবার বাড়বে। আরও পড়ুন: বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে কাজ কিছুটা কম থাকলেও সামনে নতুন অর্ডার আসবে। তখন রফতানিও কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন ও ভারত বিভিন্ন কৌশলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকেও নতুন কৌশল গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এ কারণে আগামী বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী বলেন, রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কেটে নেয়া কর কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করে অন্যান্য কর থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২ হাজার ১০০টি এবং চট্টগ্রামে ৪৬৪টি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের।

Go to News Site